উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তে ইয়াবা পাচারকে কেন্দ্র করে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। টানা ৩০ মিনিট ধরে অন্তত ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে পালংখালী স্টেশন থেকে রওনা দেন। পথিমধ্যে পালংখালী উচ্চবিদ্যালয়ের গেট পার হওয়ার সাথে সাথে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে মোটরসাইকেল রেখে ৩০ মিনিটের মতো নিরাপদে অবস্থান করেন তিনি। এরপর গোলাগুলির শব্দ কমে গেলে বাড়িতে চলে যান।
ফরিদ নামে ফারিরবিলের এক বাসিন্দা জানান, রাত ১১টার দিকে ফারিরবিল কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ৩০ জনের মতো লোক জড়ো হয়ে গুলিবর্ষন করেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি ‘ডাকাত রুবেল’-এর সহযোগীরা সীমান্ত থেকে মাদকের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় এ তাঁরা ভয়ভীতি দেখাতে ভারি অস্ত্র নিয়ে গুলি বর্ষন করে।
পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রুবেল ওরফে ডাকাত রুবেল। রুবেল ও তার ভাই ইরান মাঝি উভয়েই একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে রুবেলের আপন ভাই ইরান মাঝি ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে আছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রাতে গোলাগুলির খবরের সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।রুবেল গ্রুপের সদস্যরা গোলাগুলি করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রুবেলের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে পালংখালীতে মাদক ছিনতাই এবং পাচারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির হাতে মিয়ানমার থেকে আসা কিছু ভারী অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্র মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করছে কারবারিরা। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















