ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালী সীমান্তে রুবেল-খাইরুল বশর গ্রুপের গো’লা’গু’লি, নেপথ্যে ই’য়া’বা ছি’ন’তা’ই টেকনাফে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাচারকারিদের ২০ আস্তানা সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো আপিল বিভাগ তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে একমত সিটি কলেজ গেটে গুলিবিদ্ধ নির্মাণ শ্রমিক একরাম মারা গেছে পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর টেকনাফের সাবরাং থেকে ৬ লাখ ১৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২০ পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে চলছে ঘের তৈরির মহোৎসব কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে

ফেসবুকে দেওয়া একটি ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন নিয়ে বিরোধ। সেখান থেকে মারধরের ঘটনা, আর ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়ে মায়ের মৃত্যু। উখিয়ার টাইপালংয়ের সেই আলোচিত ঘটনায় এবার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার আসামি মিজানুর রহমান সিকদার, মো. হাশেম সিকদার ও জিসান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে পাঠানোর পর কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান। তিনি বলেন, আসামিরা কারাগারে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

মামলার আইনজীবী রেজাউল করিম সিকদার আজিমও বলেন, আসামিদের কারাগারে পাঠানোয় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তারা।

মামলার অভিযোগ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং এলাকায় ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন দেওয়ায় স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এর জেরে এক তরুণকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার মা ছৈয়দা বেগমও।

স্বজনদের ভাষ্য, এ সময় তিনি আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর উখিয়া থানায় মামলা করেন এস এম ইমরান। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার তিন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাময়িক স্বস্তি এলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

তাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুকে দেওয়া একটি ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন নিয়ে বিরোধ। সেখান থেকে মারধরের ঘটনা, আর ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়ে মায়ের মৃত্যু। উখিয়ার টাইপালংয়ের সেই আলোচিত ঘটনায় এবার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার আসামি মিজানুর রহমান সিকদার, মো. হাশেম সিকদার ও জিসান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে পাঠানোর পর কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান। তিনি বলেন, আসামিরা কারাগারে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

মামলার আইনজীবী রেজাউল করিম সিকদার আজিমও বলেন, আসামিদের কারাগারে পাঠানোয় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তারা।

মামলার অভিযোগ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং এলাকায় ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন দেওয়ায় স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এর জেরে এক তরুণকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার মা ছৈয়দা বেগমও।

স্বজনদের ভাষ্য, এ সময় তিনি আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর উখিয়া থানায় মামলা করেন এস এম ইমরান। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার তিন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাময়িক স্বস্তি এলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

তাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।