পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে মৎস্যঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে প্যারাবন কাটার পাশাপাশি প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের ঘটনায় উপকূলীয় বনবিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া ঘাটসংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানটিয়া ইউনিয়নের নয়া পাড়ার মৃত করম আলীর ছেলে শফি ও মিয়া পাড়ার মকবুল বহদ্দার কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় প্যারাবন কাটা শুরু করেন। এতে প্রায় ৪ চেইনজুড়ে প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে গতকাল থেকে প্রায় ১০ একর জায়গায় স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে প্যারাবন নিধন ও মাটি কাটার ঘটনা ঘটলেও শুরুতে উপকূলীয় বনবিভাগের তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল না। এতে বনবিভাগের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং স্কেভেটর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শফি প্যারাবন কাটার অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল। মৎস্যঘের করার জন্য তিনি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ দিয়েছেন মাত্র।
অপর অভিযুক্ত মফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘শফি নামে একজন এ ঘটনায় জড়িত। তিনিই প্যারাবন কেটে বাঁধ তৈরি করছেন।
স্থানীয় শিমুল বলেন, জায়গাটি তারা ‘মাথাঘিলা’ হিসেবে দেখাশোনা করে থাকেন। তাদের কাছ থেকে শফি ও মফিজ বর্গা নিয়ে তাদের অগোচরে প্যারাবন কেটে বাঁধ তৈরি করেছেন। বিষয়টি জানার পর তারা বনবিভাগকে অবগত করেছেন।
এদিকে, উপকূলীয় প্যারাবন উপকূল রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এভাবে নির্বিচারে প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের তৈরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট প্যারাবন রক্ষায় বনবিভাগের কার্যকর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পেকুয়া প্রতিনিধি: 
























