ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

দীর্ঘ ১৯ বছর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে ঘিরে নতুন অপপ্রচার: অধ্যক্ষের প্রতিবাদ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমীর হোছাইনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন আগে আদালত, জেলা প্রশাসন এবং তৎকালীন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া একটি ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেন, পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে আমি ৯ জানুয়ারি ২০০১ খ্রিস্টাব্দে যোগদান করি। যোগদানের পর গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তৎকালীন সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সদস্য সচিব হিসেবে অনুমোদন না দেওয়ায় পরবর্তীতে সভাপতির পরিবর্তন করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম নেজামীকে সভাপতি করা হয়।

এরপর আমার দাবি অনুযায়ী, আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র তৈরি করা হয় এবং আমাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আমি তৎকালীন মহেশখালী সহকারী জজ আদালতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম নেজামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে মামলা নং–৪৪/২০০৪ দায়ের করি।

পরবর্তীতে ১/১১-এর সময় তৎকালীন কেয়ারটেকার সরকারের নির্দেশনার আলোকে আমি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নিকট অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের আবেদন করি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ছিলেন।
তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করার পর জেলা প্রশাসন আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের সুপারিশ করে। একই সময়ে মহেশখালী সহকারী জজ আদালত ৭ মে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রদত্ত রায়ে আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল করতে আদালতের কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে তৎকালীন গভর্নিং বডি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২৪ জুন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান করে। আমি ওই দিনই অধ্যক্ষ হিসেবে যথাযথভাবে পুনরায় যোগদান করি এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বহু বছর আগের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ২০১০ সালের একটি কাল্পনিক ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া একটি অডিট প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অতীতের ঘটনাবলীর বিষয়ে আদালতের কার্যক্রম, জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও সুপারিশ এবং তৎকালীন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপরও পুরোনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা দুঃখজনক।
আমি সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ এবং অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

পরিশেষে, আমি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বসাধারণকে প্রকৃত ঘটনা অবহিত করার উদ্দেশ্যেই এ বিবৃতি প্রদান করছি। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দান করেন এবং ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

দীর্ঘ ১৯ বছর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে ঘিরে নতুন অপপ্রচার: অধ্যক্ষের প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমীর হোছাইনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন আগে আদালত, জেলা প্রশাসন এবং তৎকালীন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া একটি ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেন, পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে আমি ৯ জানুয়ারি ২০০১ খ্রিস্টাব্দে যোগদান করি। যোগদানের পর গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তৎকালীন সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সদস্য সচিব হিসেবে অনুমোদন না দেওয়ায় পরবর্তীতে সভাপতির পরিবর্তন করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম নেজামীকে সভাপতি করা হয়।

এরপর আমার দাবি অনুযায়ী, আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র তৈরি করা হয় এবং আমাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আমি তৎকালীন মহেশখালী সহকারী জজ আদালতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আলম নেজামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে মামলা নং–৪৪/২০০৪ দায়ের করি।

পরবর্তীতে ১/১১-এর সময় তৎকালীন কেয়ারটেকার সরকারের নির্দেশনার আলোকে আমি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নিকট অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের আবেদন করি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ছিলেন।
তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করার পর জেলা প্রশাসন আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের সুপারিশ করে। একই সময়ে মহেশখালী সহকারী জজ আদালত ৭ মে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রদত্ত রায়ে আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহাল করতে আদালতের কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে তৎকালীন গভর্নিং বডি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ২৪ জুন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান করে। আমি ওই দিনই অধ্যক্ষ হিসেবে যথাযথভাবে পুনরায় যোগদান করি এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বহু বছর আগের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ২০১০ সালের একটি কাল্পনিক ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া একটি অডিট প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অতীতের ঘটনাবলীর বিষয়ে আদালতের কার্যক্রম, জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও সুপারিশ এবং তৎকালীন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপরও পুরোনো বিষয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা দুঃখজনক।
আমি সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ এবং অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

পরিশেষে, আমি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বসাধারণকে প্রকৃত ঘটনা অবহিত করার উদ্দেশ্যেই এ বিবৃতি প্রদান করছি। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দান করেন এবং ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করেন।