কক্সবাজারের পেকুয়ায় দায়ের করা একটি পর্নোগ্রাফি মামলার বাদী তরুণীকে মামলা তুলে নিতে বিদেশ থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িতে লোক পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি এবং পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
রোববার (১৭ মে) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথে ও বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে ওই তরুণীকে উত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। পরে সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়ে ভুক্তভোগী তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্পর্কের একপর্যায়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
কিন্তু পরে বিয়ের কথা বললে অভিযুক্ত নানা টালবাহানা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি আবারও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন এবং টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতে থাকেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বাবা ও ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও চাঁদাবাজির ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত ৭ এপ্রিল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সৌদি আরবে চলে যান।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশে যাওয়ার পরও থামেনি চাপ ও ভয়ভীতি। বর্তমানে সৌদি আরব থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল ও বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার বাড়িতে লোক পাঠিয়ে পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “আমি এখন চরম আতঙ্কে আছি। পরিবার নিয়েও নিরাপদ বোধ করছি না। মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হচ্ছে।”
তবে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম পর্নোগ্রাফি মামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলে্ছেন, “পর্নোগ্রাফি মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নারী নির্যাতন ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























