প্রতিবছর কোরবানীর ঈদ আসলে সীমান্ত হয়ে চোরাই পশু আনার হিড়িক পড়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে দুর্গম সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কক্সবাজারে প্রবেশ করছে চোরাই গরু। এসব গরু কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজারে আনতে পারলেই হয়ে যায় বৈধ।
গেল কয়েক বছরের তথ্য যাচাই করেলে দেখা যায়, এই হাটে দেশীর গরুর চাইতে বার্মিজ গরুর সংখ্যা বেশী থাকে। এই বাজার থেকে কোন মতেই গরুর বিক্রির রশিদ নিতে পারলেই সেসব গরু চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানের পশুর হাটে। এভাবেই একটি সিন্ডিকেট প্রতিবছর চোরাই গরুর ব্যবসা করে আসছে।
এবার আসা যাক, ২০২৩ সালে। সে সময়ে রামু উপজেলা পরিষদ কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া বাজারটি কোরবানীর পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেয় ৮৯ লাখ টাকায়। এর পরের বছর অথাৎ ২০২৪ সালে ২৪ লাখ টাকার বেশী দামে হাটটি ইজারা দেয় হয়। যার মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৩ লাখ। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলে ২০২৫ সালে এসে এই হাটের ইজারা দেয়া হয় ২৬ কোটি টাকায়। সে সময়ে দেশব্যাপী বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল ২৬ কোটি টাকার ইজারা মূল্য নিয়ে। যিনি সর্বোচ্চ দামে অর্থাৎ ২৬ কোটি টাকার ইজারা নিয়েছিলেন, তিনি হলেন তৌহিদুল ইসলাম। কিন্তু এই বাজার ঘিরে হাইকোটের একটি নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২০২৫ সালের আলোচিত এই ইজারাটি বাতিল হয়ে যায়। তা সত্বেও উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশনের মাধ্যমে, কোরবানীর পশুর হাট পরিচালনা করেছিলো। হাইকোটের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে ২০২১-২২ অর্থ বছরের ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানান, গর্জনিয়া বাজার এক বছরের জন্য ১কোটি ৫লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে নুরুল ইসলাম ব্যবসা করতে পারেননি। তাই তিনি পরবর্তী বছর গর্জনিয়া বাজারটি বিনা ইজারায় পাওয়া অথবা ক্ষতিপূরনের জন্য সংশ্লীষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নুরুল ইসলামের আবেদনটি মূল্যায়ন না করে উপজেলা প্রশাসন ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ইজারার জন্য গনবিজ্ঞপ্তি জারি করে। নুরুল ইসলাম প্রতিকার পেতে দারস্থ হয় হাইকোর্টে। হাইকোর্ট বিষয়ে আমলে নিয়ে বাজার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন, কৌশলে গর্জনিয়া বাজারের নাম পরিবর্তন করে কচ্ছপিয়া বাজার নামে ইজারা দিয়েই যাচ্ছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার সাধারন জনগন, রাকিবুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজারে কোরবান আসলেই অবৈধ গরুর ছড়াছড়ি হয়। সরকারকে রাজস্ব ফাকি দিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে গরু আনছে। একই সময়ে একই পথে ইয়াবা প্রবেশের কথাও বল্লেন তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রবিবার রাতে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় রামু উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বরূপ মহুরীর সাথে। তিনি বলেন, সরকারী নিয়ম মেনেই বাজার ইজারা দেয়া হবে। বাজারে যাতে কোন ধরনের মিয়ানমারের গরু বিক্রি করেতে না পারে সে বিষয়ে কড়া নজরদারি থাকবে।
বিশেষ প্রতিবেদক 























