ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ ট্রাম্পের নেভি-ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে সাগরে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস শখের মাছ চাষে বিষ প্রয়োগ, লাখ টাকার ক্ষতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মৃত্যু হোয়াইক্যংয়ে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, নারীসহ আহত ৫ আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের সূচনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা! সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে ইউএনওর ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবরের সংবাদ! কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয় রামুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার যৌতুকের বলি চকরিয়ার গৃহবধূ মরিয়ম অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না-কচ্ছপিয়ার বিএনপি নেতা আবছার “কথা”আর কথা বলবে না

আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোকের মাতমে

শখ করে মামাদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল আদর দাশ। দুপুরের রোদ, নদীর ঠান্ডা পানি আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন সময়—সবকিছু মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। মাতামুহুরী নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এই স্কুলছাত্র।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নামার চিরিংগা এলাকার মাতামুহুরী নদীর ব্রিজ পয়েন্টে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

নিহত আদর দাশ (১৩) চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী খোদারকুম হিন্দুপাড়ার কাতারপ্রবাসী প্রদীপ দাশের ছেলে। সে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন প্রদীপ দাশ। আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ করতে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যান প্রদীপ দাশ, তার ছেলে আদর এবং দুই শ্যালক ছোটন দাশ (৩৩) ও ক্লিনটন দাশ (২৭)।

প্রথমে তারা পৌরসভার বাঁশঘাটা এলাকায় যান। সেখানে পানি কম থাকায় পরে নামার চিরিংগা পয়েন্টে চলে আসেন। নদীতে নেমে সবাই গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে নদীর ভেতরে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গভীর গর্তে একসঙ্গে তলিয়ে যান ছোটন, ক্লিনটন ও আদর।

হঠাৎ তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। অনেক চেষ্টার পর ছোটন ও ক্লিনটনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আদরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের তল্লাশিতে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের আত্মীয় রনজিত দাশ জানিয়েছেন, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেখানে চোরাবালির মতো গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তেই তলিয়ে যায় আদর। উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা প্রদীপ দাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, “শখ করে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিলাম। বালু উত্তোলনের কারণে তৈরি হওয়া গর্তে ডুবে গেল আমার ছেলে। এসব গর্ত যেন মৃত্যুফাঁদ। একবার পড়ে গেলে আর বাঁচা যায় না। এখন নিজেকে কোনোভাবেই সামলাতে পারছি না।”

তিনি জানিয়েছেন, দুই শ্যালক বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও পুরো পরিবার গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আদরের অকাল মৃত্যু যেন আবারও সামনে এনে দিল মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহ পরিণতি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, “নদীতে ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীর তলদেশে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত এখন সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো শোকের মাতমে

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

শখ করে মামাদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল আদর দাশ। দুপুরের রোদ, নদীর ঠান্ডা পানি আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন সময়—সবকিছু মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। মাতামুহুরী নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এই স্কুলছাত্র।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নামার চিরিংগা এলাকার মাতামুহুরী নদীর ব্রিজ পয়েন্টে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

নিহত আদর দাশ (১৩) চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী খোদারকুম হিন্দুপাড়ার কাতারপ্রবাসী প্রদীপ দাশের ছেলে। সে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন প্রদীপ দাশ। আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনরা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ করতে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে যান প্রদীপ দাশ, তার ছেলে আদর এবং দুই শ্যালক ছোটন দাশ (৩৩) ও ক্লিনটন দাশ (২৭)।

প্রথমে তারা পৌরসভার বাঁশঘাটা এলাকায় যান। সেখানে পানি কম থাকায় পরে নামার চিরিংগা পয়েন্টে চলে আসেন। নদীতে নেমে সবাই গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে নদীর ভেতরে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গভীর গর্তে একসঙ্গে তলিয়ে যান ছোটন, ক্লিনটন ও আদর।

হঠাৎ তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। অনেক চেষ্টার পর ছোটন ও ক্লিনটনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আদরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের তল্লাশিতে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের আত্মীয় রনজিত দাশ জানিয়েছেন, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেখানে চোরাবালির মতো গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তেই তলিয়ে যায় আদর। উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা প্রদীপ দাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, “শখ করে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিলাম। বালু উত্তোলনের কারণে তৈরি হওয়া গর্তে ডুবে গেল আমার ছেলে। এসব গর্ত যেন মৃত্যুফাঁদ। একবার পড়ে গেলে আর বাঁচা যায় না। এখন নিজেকে কোনোভাবেই সামলাতে পারছি না।”

তিনি জানিয়েছেন, দুই শ্যালক বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও পুরো পরিবার গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আদরের অকাল মৃত্যু যেন আবারও সামনে এনে দিল মাতামুহুরী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহ পরিণতি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, “নদীতে ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদীর তলদেশে বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত এখন সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।