ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক বিক্রি ও সেবনে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি অসঙ্গতি ও দুর্নীতির নিউজ অবশ্যই করবেন কিন্তু তা যাচাই করে করবেন- জেলা প্রশাসক সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে রাজ্য সরকারের মন্তব্যে বাংলাদেশ বিচলিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে অপহরণ-মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা কক্সবাজারে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত বিশ্বকাপের বাকি ৩০ দিন: গোল উৎসবের আসর ‘৫৪’ পুঁথিগত নয়, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনীতে মনোযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শহরের ফাতের ঘোনায় গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার : স্বামী পলাতক পোকখালীতে ভবনের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে পটপরিবর্তন হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তৃণমূলে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের ভীত মজবুতের আহ্বান আনোয়ারীর পাচারকালে ইয়াবাসহ তিন কারবারি আটক, ৩হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার লবণ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

টেকনাফে অপহরণ-মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানবপাচার মামলার মূলহোতাসহ পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (১২ মে) র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের পাঠানো পৃথক দুইটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, ঢাকার উত্তরখান থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার তদন্তের সূত্র ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কোনাপাড়া শাহপরীরদ্বীপ এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে।

র‍্যাবের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সীমান্তপথে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ মে ঢাকার উত্তরখান থানায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলার পর বিষয়টি র‍্যাবের নজরে আসে। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, মামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম শাহপরীর দ্বীপের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে র‍্যাব-১৫ এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব আরও জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অপরাধচক্রের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

অন্যদিকে, একই দিনে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বীচ পয়েন্ট এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে আব্দুর রহিম (৩৭) নামে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালত আব্দুর রহিমকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব নিশ্চিত হয় যে, তিনি টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়াপাড়া সংলগ্ন বীচ পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক বিক্রি ও সেবনে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: আইজিপি

টেকনাফে অপহরণ-মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানবপাচার মামলার মূলহোতাসহ পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (১২ মে) র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের পাঠানো পৃথক দুইটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, ঢাকার উত্তরখান থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার তদন্তের সূত্র ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কোনাপাড়া শাহপরীরদ্বীপ এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে।

র‍্যাবের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সীমান্তপথে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ মে ঢাকার উত্তরখান থানায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলার পর বিষয়টি র‍্যাবের নজরে আসে। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, মামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম শাহপরীর দ্বীপের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে র‍্যাব-১৫ এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব আরও জানায়, জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অপরাধচক্রের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

অন্যদিকে, একই দিনে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বীচ পয়েন্ট এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে আব্দুর রহিম (৩৭) নামে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালত আব্দুর রহিমকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব নিশ্চিত হয় যে, তিনি টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়াপাড়া সংলগ্ন বীচ পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।