ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা

মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান পণ্য পাচারে সক্রিয় আবুল কালাম সিন্ডিকেট

  • তানভীর শিপু
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • 2111

বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে সিমেন্ট পাচার করছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
‎
‎বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালামের ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ পাঁচ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড।
‎
‎গেলো ২৭ মার্চ মিয়ানমারে পাচারকালে
‎লাইসেন্সবিহীন একটি ট্রলার থেকে সিমেন্ট,ডিজেল সহ প্রায় ৬২ লক্ষ টাকার মালামাল আটক করে কোস্টগার্ড। যেখানে আবুল কালামকে ৩নং আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান,আবুল কালাম আজাদ মহেশখালী ও শহরের আলির জাহালের শাপলা ট্রের্ডাস এর সত্ত্বাধিকারী।
‎গেলো দুই বছর ধরে তার দুটি দোকান বন্ধ।অভিযোগ আছে আবুল কালাম,মহেশখালীর
‎বারিয়া পাড়া,নূনাছড়ি,শাপলাপুরের মোঃফোরকান এবং উখিয়ার সিকদার বিলের বাসিন্দা ফখর উদ্দিন (গাজি) মিলে মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান জিনিস পত্র পাচার করে আসছে বিনিময়ে আনছে ইয়াবা।
‎
‎অন্যদিকে পতেঙ্গা ডায়মন্ড ফ্যাক্টেরি থেকে শাপলা ট্রের্ডাসের নামে সিমেন্ট ক্রয় করলেও তা চলে যাচ্ছে মিয়ানমার। সম্প্রতি আবুল কালামের দুটি ট্রলার আটকের পর বিষয়টি সামনে আসে।
‎
‎এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
‎অন্যদিকে তার বড় ভাই ফোরকানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তারা সম্পর্কে ভাই হলেও তাদের দুই পরিবার আলাদা ভাবে বসবাস করে এবং তার ভাই আবুল কালামের এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
‎
‎বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ প্রতিবেশী মিয়ানমারে (বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে) সিমেন্ট পাচারের পেছনে মূলত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ সংকট এবং বিশাল মুনাফার হাতছানি কাজ করছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে রাখাইন রাজ্যে পণ্য পরিবহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে রাখাইন অঞ্চলে নির্মাণসামগ্রী, বিশেষ করে সিমেন্টের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে রাখাইন রাজ্যে সিমেন্টের দাম সাধারণ মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।অন্যদিকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অবকাঠামো যেমন: বাংকার এবং বেসামরিক ঘরবাড়ি পুন:র্নির্মাণের জন্য সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

‎অনুসন্ধান বলছে বাংলাদেশে যে সিমেন্টের বস্তা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটি পাচার হয়ে রাখাইনে পৌঁছালে প্রায় ১ লক্ষ মিয়ানমার কিয়াটে (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ গুণ বেশি) বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ মুনাফার লোভেই পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
‎
‎বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা (বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর) এবং দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ট্রলার বা মাছ ধরার নৌকায় করে সহজেই রাতে বা ভোরে সিমেন্টসহ নানান পণ্যগুলো পাচার করা হয়।
‎সমুদ্রে অভিযানে বিভিন্ন বাহিনী এসব সিমেন্ট বোঝাই ট্রলার সহ পাচারকারীদের আটক করলেও থেমে নেই এসব পণ্য পাচার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ

মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান পণ্য পাচারে সক্রিয় আবুল কালাম সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ০১:৫২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে সিমেন্ট পাচার করছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
‎
‎বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালামের ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ পাঁচ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড।
‎
‎গেলো ২৭ মার্চ মিয়ানমারে পাচারকালে
‎লাইসেন্সবিহীন একটি ট্রলার থেকে সিমেন্ট,ডিজেল সহ প্রায় ৬২ লক্ষ টাকার মালামাল আটক করে কোস্টগার্ড। যেখানে আবুল কালামকে ৩নং আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান,আবুল কালাম আজাদ মহেশখালী ও শহরের আলির জাহালের শাপলা ট্রের্ডাস এর সত্ত্বাধিকারী।
‎গেলো দুই বছর ধরে তার দুটি দোকান বন্ধ।অভিযোগ আছে আবুল কালাম,মহেশখালীর
‎বারিয়া পাড়া,নূনাছড়ি,শাপলাপুরের মোঃফোরকান এবং উখিয়ার সিকদার বিলের বাসিন্দা ফখর উদ্দিন (গাজি) মিলে মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান জিনিস পত্র পাচার করে আসছে বিনিময়ে আনছে ইয়াবা।
‎
‎অন্যদিকে পতেঙ্গা ডায়মন্ড ফ্যাক্টেরি থেকে শাপলা ট্রের্ডাসের নামে সিমেন্ট ক্রয় করলেও তা চলে যাচ্ছে মিয়ানমার। সম্প্রতি আবুল কালামের দুটি ট্রলার আটকের পর বিষয়টি সামনে আসে।
‎
‎এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
‎অন্যদিকে তার বড় ভাই ফোরকানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তারা সম্পর্কে ভাই হলেও তাদের দুই পরিবার আলাদা ভাবে বসবাস করে এবং তার ভাই আবুল কালামের এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
‎
‎বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ প্রতিবেশী মিয়ানমারে (বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে) সিমেন্ট পাচারের পেছনে মূলত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ সংকট এবং বিশাল মুনাফার হাতছানি কাজ করছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে রাখাইন রাজ্যে পণ্য পরিবহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে রাখাইন অঞ্চলে নির্মাণসামগ্রী, বিশেষ করে সিমেন্টের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে রাখাইন রাজ্যে সিমেন্টের দাম সাধারণ মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।অন্যদিকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অবকাঠামো যেমন: বাংকার এবং বেসামরিক ঘরবাড়ি পুন:র্নির্মাণের জন্য সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

‎অনুসন্ধান বলছে বাংলাদেশে যে সিমেন্টের বস্তা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটি পাচার হয়ে রাখাইনে পৌঁছালে প্রায় ১ লক্ষ মিয়ানমার কিয়াটে (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ গুণ বেশি) বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ মুনাফার লোভেই পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
‎
‎বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা (বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর) এবং দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ট্রলার বা মাছ ধরার নৌকায় করে সহজেই রাতে বা ভোরে সিমেন্টসহ নানান পণ্যগুলো পাচার করা হয়।
‎সমুদ্রে অভিযানে বিভিন্ন বাহিনী এসব সিমেন্ট বোঝাই ট্রলার সহ পাচারকারীদের আটক করলেও থেমে নেই এসব পণ্য পাচার।