বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের অভিযোগ উঠেছে আবুল কালাম নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে সিমেন্ট পাচার করছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালামের ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ পাঁচ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড।
গেলো ২৭ মার্চ মিয়ানমারে পাচারকালে
লাইসেন্সবিহীন একটি ট্রলার থেকে সিমেন্ট,ডিজেল সহ প্রায় ৬২ লক্ষ টাকার মালামাল আটক করে কোস্টগার্ড। যেখানে আবুল কালামকে ৩নং আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান,আবুল কালাম আজাদ মহেশখালী ও শহরের আলির জাহালের শাপলা ট্রের্ডাস এর সত্ত্বাধিকারী।
গেলো দুই বছর ধরে তার দুটি দোকান বন্ধ।অভিযোগ আছে আবুল কালাম,মহেশখালীর
বারিয়া পাড়া,নূনাছড়ি,শাপলাপুরের মোঃফোরকান এবং উখিয়ার সিকদার বিলের বাসিন্দা ফখর উদ্দিন (গাজি) মিলে মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান জিনিস পত্র পাচার করে আসছে বিনিময়ে আনছে ইয়াবা।
অন্যদিকে পতেঙ্গা ডায়মন্ড ফ্যাক্টেরি থেকে শাপলা ট্রের্ডাসের নামে সিমেন্ট ক্রয় করলেও তা চলে যাচ্ছে মিয়ানমার। সম্প্রতি আবুল কালামের দুটি ট্রলার আটকের পর বিষয়টি সামনে আসে।
এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
অন্যদিকে তার বড় ভাই ফোরকানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তারা সম্পর্কে ভাই হলেও তাদের দুই পরিবার আলাদা ভাবে বসবাস করে এবং তার ভাই আবুল কালামের এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ প্রতিবেশী মিয়ানমারে (বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে) সিমেন্ট পাচারের পেছনে মূলত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরবরাহ সংকট এবং বিশাল মুনাফার হাতছানি কাজ করছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে রাখাইন রাজ্যে পণ্য পরিবহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে রাখাইন অঞ্চলে নির্মাণসামগ্রী, বিশেষ করে সিমেন্টের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ সংকটের কারণে রাখাইন রাজ্যে সিমেন্টের দাম সাধারণ মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।অন্যদিকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অবকাঠামো যেমন: বাংকার এবং বেসামরিক ঘরবাড়ি পুন:র্নির্মাণের জন্য সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
অনুসন্ধান বলছে বাংলাদেশে যে সিমেন্টের বস্তা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটি পাচার হয়ে রাখাইনে পৌঁছালে প্রায় ১ লক্ষ মিয়ানমার কিয়াটে (যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ গুণ বেশি) বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ মুনাফার লোভেই পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা (বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর) এবং দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ট্রলার বা মাছ ধরার নৌকায় করে সহজেই রাতে বা ভোরে সিমেন্টসহ নানান পণ্যগুলো পাচার করা হয়।
সমুদ্রে অভিযানে বিভিন্ন বাহিনী এসব সিমেন্ট বোঝাই ট্রলার সহ পাচারকারীদের আটক করলেও থেমে নেই এসব পণ্য পাচার।
তানভীর শিপু 


















