ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন টেকনাফে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতার হাতে শিবির কর্মী খুন,বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা নিহত শফিউল্লাহর লোহাগাড়ায় ডাম্পার-সিএনজির সংঘর্ষ,আহত-৪

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।