ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রান্নাঘর রেস্টুরেন্টসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি শাহীন,সহ-সভাপতি সেলিম, সম্পাদক ফারুক কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইমতিয়াজের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন স্বামী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: গুরুত্ব পাচ্ছে জীবনমুখী শিক্ষা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় দেড় লাখ ইয়াবাসহ আটক ১ টেকনাফের নাইট্যংপাড়ার জাহেদ আলমকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ স্ত্রীর সৈকতে রাস্তা নির্মান বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাল জাতিসংঘের স্পেশাল র‍্যাপোটিয়ার মহেশখালীর হোয়ানকে ছুরিকাঘাতে গৃহবধুকে হত্যা শ্রীলঙ্কার জাতীয় ও উন্মুক্ত সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে কক্সবাজারের তিন সার্ফার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক আরো ৫ : ২ দিনে আটক ১৯ জন

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।