ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

সংবাদ প্রকাশের জের, সাংবাদিককে বিট কর্মকর্তার মামলার হুমকি

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, টৈটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টৈটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। তাঁর কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তার বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সাংবাদিককে হুমকি দিইনি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের রেসপেক্ট করি। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান করেছি। পরবর্তীতে মামলাও দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে খুঁজ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নই। তথ্য প্রমাণ থাকলে সাংবাদিকরা নিউজ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।