ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেতে শুরু করেছেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওশানের ফুটবল টুর্নামেন্টে পরিচালক মিশু-ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক আয়োজন পর্যটন সেবায় কর্মীদের মনোবল বাড়ায় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ধূমপায়ীদের রক্তে মিললো মাইক্রোপ্লাস্টিক, রয়েছে হার্ট অ্যাটাকের উচ্চ ঝুঁকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি থেকে ২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ কানায় কানায় পূর্ণ বাঁশখালীর সাগরপাড়ের সমাবেশস্থল পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চলমান মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের অভিযান, ১৪ মাসে আটক ১৬৬ জন

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ৯ বছর হতে চললো প্রায়।২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ হলেও ৯ বছরে নতুন করে অনুপ্রবেশ এবং উচ্চজন্মহারের কারণে এ সংখ্যা এখন ১২ লাখের কাছাকাছি।বিশাল এ জনসংখ্যার বসবাস উখিয়া এবং টেকনাফ এই দুই উপজেলায়।ফলে তাঁদের নিরাপত্তা ও ক্যাস্পে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২০ সাল থেকে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

৮, ১৪, ১৬ আর্মড ব্যাটালিয়ন নামে এ তিন ইউনিটের ৮ এবং ১৪ কাজ করে উখিয়ায়, ১৬ এপিবিএন কাজ করে টেকনাফে।

এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ১৪ মাসে পরিচালিত অভিযানে ১৬৬ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চুরি যাওয়া ও হারানো ৩৭টি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

৮ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭১টি মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন বয়সী অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকি-টকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা এবং মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোনও।

এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউনিটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের অভিযান, ১৪ মাসে আটক ১৬৬ জন

আপডেট সময় : ০৫:১৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ৯ বছর হতে চললো প্রায়।২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ হলেও ৯ বছরে নতুন করে অনুপ্রবেশ এবং উচ্চজন্মহারের কারণে এ সংখ্যা এখন ১২ লাখের কাছাকাছি।বিশাল এ জনসংখ্যার বসবাস উখিয়া এবং টেকনাফ এই দুই উপজেলায়।ফলে তাঁদের নিরাপত্তা ও ক্যাস্পে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২০ সাল থেকে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

৮, ১৪, ১৬ আর্মড ব্যাটালিয়ন নামে এ তিন ইউনিটের ৮ এবং ১৪ কাজ করে উখিয়ায়, ১৬ এপিবিএন কাজ করে টেকনাফে।

এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ১৪ মাসে পরিচালিত অভিযানে ১৬৬ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চুরি যাওয়া ও হারানো ৩৭টি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

৮ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭১টি মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন বয়সী অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকি-টকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা এবং মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোনও।

এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউনিটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।