ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারকাহীন মহেশখালী খেলোয়াড় সমিতিকে হারিয়ে মাঠ মাতালো রামু কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার হেরেও রেকর্ড করলো মহেশখালী উপজেলা ফুটবল দল পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেনারেটরে ওড়না পেঁচিয়ে আইওএমের নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু ২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক দর্শকের ঢল সামলাতে ব্যর্থ জেলা স্টেডিয়াম: আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি! উখিয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চকরিয়ায় বসতঘরে অভিযান, ইয়াবা-গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী কারবারি গ্রেপ্তার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে খেলতে চায় ব্রাজিল বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের অভিযান, ১৪ মাসে আটক ১৬৬ জন

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ৯ বছর হতে চললো প্রায়।২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ হলেও ৯ বছরে নতুন করে অনুপ্রবেশ এবং উচ্চজন্মহারের কারণে এ সংখ্যা এখন ১২ লাখের কাছাকাছি।বিশাল এ জনসংখ্যার বসবাস উখিয়া এবং টেকনাফ এই দুই উপজেলায়।ফলে তাঁদের নিরাপত্তা ও ক্যাস্পে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২০ সাল থেকে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

৮, ১৪, ১৬ আর্মড ব্যাটালিয়ন নামে এ তিন ইউনিটের ৮ এবং ১৪ কাজ করে উখিয়ায়, ১৬ এপিবিএন কাজ করে টেকনাফে।

এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ১৪ মাসে পরিচালিত অভিযানে ১৬৬ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চুরি যাওয়া ও হারানো ৩৭টি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

৮ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭১টি মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন বয়সী অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকি-টকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা এবং মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোনও।

এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউনিটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকাহীন মহেশখালী খেলোয়াড় সমিতিকে হারিয়ে মাঠ মাতালো রামু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের অভিযান, ১৪ মাসে আটক ১৬৬ জন

আপডেট সময় : ০৫:১৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ৯ বছর হতে চললো প্রায়।২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ হলেও ৯ বছরে নতুন করে অনুপ্রবেশ এবং উচ্চজন্মহারের কারণে এ সংখ্যা এখন ১২ লাখের কাছাকাছি।বিশাল এ জনসংখ্যার বসবাস উখিয়া এবং টেকনাফ এই দুই উপজেলায়।ফলে তাঁদের নিরাপত্তা ও ক্যাস্পে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২০ সাল থেকে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।

৮, ১৪, ১৬ আর্মড ব্যাটালিয়ন নামে এ তিন ইউনিটের ৮ এবং ১৪ কাজ করে উখিয়ায়, ১৬ এপিবিএন কাজ করে টেকনাফে।

এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ১৪ মাসে পরিচালিত অভিযানে ১৬৬ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, চুরি যাওয়া ও হারানো ৩৭টি মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

৮ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭১টি মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।
একই সময়ে বিভিন্ন বয়সী অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকি-টকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা এবং মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোনও।

এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউনিটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।