ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায় এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০, আহত ১২৬৮ : যাত্রী কল্যাণ সমিতি তরুণদের দক্ষ করে তুললে বিশ্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যকর খাবার ওটস সবার জন্য ‘উপকারী’ নয়, কারণ জানুন হামের টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই দুর্ঘটনা কমাতে চুনতিতে ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ শুরু মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আরও ২ কাঠবোঝাই ট্রলার, ফিরছে সীমান্ত বাণিজ্যের প্রাণচাঞ্চল্য চকরিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সদস্য সচিব হাসান হোসাইন আলী সানি আর নেই: কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত, সদর হাসপাতালে মৃত্যু  লামায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছিটানো হলো ঔষধ টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলো ছাত্রনেতা হাফিজ উল্লাহ প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক এর বক্তব্য কালের স্বাক্ষী মগনামা সিকদার বাড়ী: শতবর্ষী স্থাপত্য সংরক্ষনের দাবী রামু প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি: আবদুল্লাহ আল মামুন সভাপতি, সোয়েব সাঈদ সাধারণ সম্পাদক

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

  • ইমরান হোসাইন
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 437

রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলী (৪১) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁর মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। আর পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়েই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীর পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে পাহাড়ি গভীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইসঙ্গে, টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী দাবি করেন, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। তার ভাষ্য, “রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার পাহাড়ি বনের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে আমি নিজেই ৮ লাখ টাকা নগদ দিই। এরপর তারা আমার ভাতিজাকে ছেড়ে দেয়।”

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুক্তিপণের টাকা বুঝে নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি ঈদগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাঁকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “মুক্তিপণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম জানান, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ, নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপহরণচক্র নির্মূলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়াছ উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত। তার ভাষ্য, “দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।”

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে হতাশা। তার ভাষ্য, “এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রামু উপজেলার ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলী (৪১) অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে অপহরণের শিকার হওয়ার পর একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁর মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।স্বজনদের দাবি, ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। আর পুলিশের বক্তব্য, অভিযান চালিয়েই তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগাঁও থেকে নিজ বাড়ি ঈদগড়ে যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় ১০–১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল রুস্তম আলীর পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে পাহাড়ি গভীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ফোন করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একইসঙ্গে, টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী দাবি করেন, দিনভর দেনদরবারের পর অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা থেকে নেমে ৮ লাখ টাকায় রাজি হয়। তার ভাষ্য, “রাতে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের স্বপ্নতরী এলাকার পাহাড়ি বনের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে আমি নিজেই ৮ লাখ টাকা নগদ দিই। এরপর তারা আমার ভাতিজাকে ছেড়ে দেয়।”

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মুক্তিপণের টাকা বুঝে নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয়। পরে তিনি ঈদগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তাঁকে উদ্ধারে দিনভর অভিযান চালানো হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, অপহরণের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের একপর্যায়ে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “মুক্তিপণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম জানান, পাহাড়ি এলাকায় টানা অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রুস্তম আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি চেষ্টা, চুরি, মারামারি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

অপহরণের পেছনে পুরোনো বিরোধ, নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব- এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনিরুল।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপহরণচক্র নির্মূলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আয়াছ উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত। তার ভাষ্য, “দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।”

ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে হতাশা। তার ভাষ্য, “এই সড়কে বহুদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। একজন ইউপি সদস্য অপহরণের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”