ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে রামু সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক শহীদুল হক কাজলের বক্তব্য কুতুবদিয়ায় বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বাছাই, দুই শতাধিক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ মানবসেবার তিন দশক: কক্সবাজার সদরের শ্রেষ্ঠ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক চৌফলদন্ডির হালিমা বেগম লবণসহিষ্ণু জাতে সাফল্য, কক্সবাজারের লবণ মাঠে হচ্ছে ধান চাষ বারবাকিয়ায় ১১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও, এলাকাজুড়ে স্বস্তি পুণরায় ফুটপাত দখল করলে আইনের আওতায় আনা হবে:ইউএনও চকরিয়া লোহাগাড়ায় নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, যুবক আটক বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা সভা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহবান উখিয়ায় খালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি টাকার বালু উত্তোলন, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন খুনিয়াপালংয়ে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও পাইপ জব্দ কক্সবাজার–মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, থামবে যেসব স্টেশনে লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার

১৯৭১। তারিখ টা ১২ ডিসেম্বর। বিকেল বেলা। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ। অসংখ্য মানুষ ছুটতে লাগলো সেখানে। আসলো তরুন,যুবা,আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কি হবে সেখানে, কেনো এতো মানুষেরা এসেছে? ততোক্ষণে উখিয়ার রত্নপালং হাইস্কুল ক্যাম্প থেকে ৪ টি গাড়ীতে করে সমুদ্র শহরে প্রবেশ করে মুক্তি সেনার দল। একটা খোলা জিপে করে আসে কমান্ডার আব্দুস সোবাহান। সেই জিপে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষনা করলেন ” আজ থেকে কক্সবাজার মুক্ত”। তারপর আকাশের দিকে লাল সবজের পতাকায় উত্তোলিত বিজয়ের বারতা।

মুহুর্তেই মানুষের মুক্তির উচ্ছাস অধিকারে নেয় পুরো শহর। চারিদিকে জয়ধ্বনি। তখন কারো চোখে জল, স্বাধীনতা অবশেষে নিজের হলো বলে।

কক্সবাজার হানাদার মুক্ত ঘোষনার মুহুর্তটি কেমন ছিলো, কেমন ছিলো সে দিনের সেই বিকেল বেলাটি,এমন প্রশ্নের জবাবে সে দিনের সেই ইতিহাসের বিরল মূহুর্তের অংশগ্রহনকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ বলেন, সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চারিদিকে মানুষের সে কি আবেগ,সে কি উচ্ছাস। আর বীর যোদ্ধাদের প্রতি মানুষের সে কি সম্মান।

তিনি বলেন,তার আগে থেকেই পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজিত হতে থাকলে কক্সবাজার শহর ও গ্রামীন এলাকা থেকে তারা পালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর কমান্ডার সোবহানের নেতৃত্বে রামু ও উখিয়া থানা মুক্ত করা হয়। তারপর রত্নাপালং হাই স্কুল ক্যাম্প থেকে ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ৪ টি বাসে করে রওয়ানা হয় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে। শহরে এসে মুক্তি বাহিনী তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তৎকালীন জেলে পার্ক লাগোয়া সার্কিট হাউজে যাওয়া দলে। সেখানে তিনি টর্চার রুমে নারীদের পরিধেয় ছেড়া কাপড়, দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে সৈকতের দিকে গেলে দেখতে পান মানুষের অর্ধ মাটি চাপা লাশ কুকুরে খাচ্ছে। এসময় তিনি মানুষের কঙ্কাল থেকে ছিটকে পড়া ১৭ টি মাথার খুলি নিয়ে সার্কিট হাউজের দেয়ালে রেখেছিলেন,এসব কথা বলতে বলতে বীর এই মুক্তিযোদ্ধার চোখে এলো জল। বললেন,রক্তের স্রোতে লেখা নাম বাংলাদেশ, এ দেশ যেনো পথ না হারায়।

কক্সবাজার মুক্ত দিবস পালনে এ বছর কোনো আয়োজন আছে এমন তথ্য পাওয়া যায় নি। তবুও ইতিহাসে অম্লান থাকবে এই ১২ ডিসেম্বর।এ দিন সাগর তীরে মুক্তির টেউ আছড়ে পড়েছিলো। যার চুড়ান্ত অর্জন সূচীত হয় মহান বিজয়ের দিন,১৬ ডিসেম্বরে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

১২ ডিসেম্বর ১৯৭১: যেভাবে মুক্ত হয় কক্সবাজার

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১। তারিখ টা ১২ ডিসেম্বর। বিকেল বেলা। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ। অসংখ্য মানুষ ছুটতে লাগলো সেখানে। আসলো তরুন,যুবা,আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কি হবে সেখানে, কেনো এতো মানুষেরা এসেছে? ততোক্ষণে উখিয়ার রত্নপালং হাইস্কুল ক্যাম্প থেকে ৪ টি গাড়ীতে করে সমুদ্র শহরে প্রবেশ করে মুক্তি সেনার দল। একটা খোলা জিপে করে আসে কমান্ডার আব্দুস সোবাহান। সেই জিপে দাঁড়িয়েই তিনি ঘোষনা করলেন ” আজ থেকে কক্সবাজার মুক্ত”। তারপর আকাশের দিকে লাল সবজের পতাকায় উত্তোলিত বিজয়ের বারতা।

মুহুর্তেই মানুষের মুক্তির উচ্ছাস অধিকারে নেয় পুরো শহর। চারিদিকে জয়ধ্বনি। তখন কারো চোখে জল, স্বাধীনতা অবশেষে নিজের হলো বলে।

কক্সবাজার হানাদার মুক্ত ঘোষনার মুহুর্তটি কেমন ছিলো, কেমন ছিলো সে দিনের সেই বিকেল বেলাটি,এমন প্রশ্নের জবাবে সে দিনের সেই ইতিহাসের বিরল মূহুর্তের অংশগ্রহনকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ বলেন, সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চারিদিকে মানুষের সে কি আবেগ,সে কি উচ্ছাস। আর বীর যোদ্ধাদের প্রতি মানুষের সে কি সম্মান।

তিনি বলেন,তার আগে থেকেই পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজিত হতে থাকলে কক্সবাজার শহর ও গ্রামীন এলাকা থেকে তারা পালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর কমান্ডার সোবহানের নেতৃত্বে রামু ও উখিয়া থানা মুক্ত করা হয়। তারপর রত্নাপালং হাই স্কুল ক্যাম্প থেকে ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ৪ টি বাসে করে রওয়ানা হয় কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে। শহরে এসে মুক্তি বাহিনী তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তৎকালীন জেলে পার্ক লাগোয়া সার্কিট হাউজে যাওয়া দলে। সেখানে তিনি টর্চার রুমে নারীদের পরিধেয় ছেড়া কাপড়, দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। সার্কিট হাউজের সামনের মাঠে সৈকতের দিকে গেলে দেখতে পান মানুষের অর্ধ মাটি চাপা লাশ কুকুরে খাচ্ছে। এসময় তিনি মানুষের কঙ্কাল থেকে ছিটকে পড়া ১৭ টি মাথার খুলি নিয়ে সার্কিট হাউজের দেয়ালে রেখেছিলেন,এসব কথা বলতে বলতে বীর এই মুক্তিযোদ্ধার চোখে এলো জল। বললেন,রক্তের স্রোতে লেখা নাম বাংলাদেশ, এ দেশ যেনো পথ না হারায়।

কক্সবাজার মুক্ত দিবস পালনে এ বছর কোনো আয়োজন আছে এমন তথ্য পাওয়া যায় নি। তবুও ইতিহাসে অম্লান থাকবে এই ১২ ডিসেম্বর।এ দিন সাগর তীরে মুক্তির টেউ আছড়ে পড়েছিলো। যার চুড়ান্ত অর্জন সূচীত হয় মহান বিজয়ের দিন,১৬ ডিসেম্বরে।