ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডাব ৬শটাকা! ‘টুকু দ্য আগলি’ বললেন ‘এভাবে চললে বিদেশি পর্যটক আসবে না’ বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে দিল নৌকাডুবি, সন্তান হারিয়ে দেশে ফিরছে নিউজিল্যান্ডের সেই পরিবার দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ৩৬ হাজার ইয়াবাসহ টেকনাফের চালক গ্রেপ্তার এবার শীত দেরিতে, কমবে তীব্রতা আজ বিশ্ব ডাক দিবস  বিশ্ব ডিম দিবস আজ বান্ধবীর সাথে কক্সবাজার ভ্রমণ, ফেরার পথে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী তাজমিনের লাশ মিলল ধানক্ষেতে কক্সবাজারে রিমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রায়হান গ্রেফতার কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী

কক্সবাজারে ডাব ৬শটাকা! ‘টুকু দ্য আগলি’ বললেন ‘এভাবে চললে বিদেশি পর্যটক আসবে না’

বিশ্বমানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে অতিরিক্ত দাম, আবাসন খরচ ও সেবা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সমুদ্রসৈকতে একটি ডাবের দাম ৬০০ টাকা, যে হোটেলকক্ষের ভাড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেটির জন্য নেওয়া হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা—এমন অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা ‘টুকু দ্য আগলি’ তথা গোলাম রব্বানী ।

কক্সবাজার ঘুরতে আসার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তার পেজে অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ভিডিওতে তিনি বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারে আসতে আগ্রহী হবেন না।

ভিডিওতে টুকু দ্য আগলি আরও অভিযোগ করেন, ১০০ টাকার খাবারের জন্য ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন ‘ দেশীয় পর্যটকদেরই যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারে এসে কী ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন?’

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গোলাম রব্বানি এ প্রসঙ্গে নাটোর রেলস্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ব্যাগ চুরির ঘটনা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের (Kirill Lander Weber) ব্যাগ চুরির ঘটনাটি আলোচনায় আসে। তার ব্যাগে ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও জরুরি নথিপত্র ছিল বলে জানা গেছে। গোলাম রব্বানি ঘটনাটিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে কক্সবাজারের সম্ভাবনা অনেক। দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও নানা ধরনের পর্যটন আকর্ষণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন এক্ষেত্রে প্রয়োজন মানসম্মত আবাসন, নির্ভরযোগ্য পরিবহন, প্রশিক্ষিত গাইড, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, শুধু হোটেল নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, মানসম্মত সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটন খাতের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন,’ কক্সবাজারে পর্যটন এলাকার বর্জ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশদূষণও এখন যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।  পর্যটন মৌসুমে সৈকত থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করতে হয় তাই এক্ষেত্রে নজর দেওয়া উচিত।’

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মোজ্জামেল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত মূল্যতালিকা, অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং অভিযোগ জানানোর সহজ সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে সেবার মান ও দামের স্বচ্ছতা আস্থার বিষয়।’

এদিকে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত জুলাইয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

যেখানে পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নগরসেবা ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার দিকেও নজর দিতে হবে বলে অভিমত ভ্রমণপিয়াসু থেকে শুরু করে স্থানীয়দের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ডাব ৬শটাকা! ‘টুকু দ্য আগলি’ বললেন ‘এভাবে চললে বিদেশি পর্যটক আসবে না’

কক্সবাজারে ডাব ৬শটাকা! ‘টুকু দ্য আগলি’ বললেন ‘এভাবে চললে বিদেশি পর্যটক আসবে না’

আপডেট সময় : ০৪:২১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বমানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে অতিরিক্ত দাম, আবাসন খরচ ও সেবা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সমুদ্রসৈকতে একটি ডাবের দাম ৬০০ টাকা, যে হোটেলকক্ষের ভাড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেটির জন্য নেওয়া হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা—এমন অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা ‘টুকু দ্য আগলি’ তথা গোলাম রব্বানী ।

কক্সবাজার ঘুরতে আসার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তার পেজে অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ভিডিওতে তিনি বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারে আসতে আগ্রহী হবেন না।

ভিডিওতে টুকু দ্য আগলি আরও অভিযোগ করেন, ১০০ টাকার খাবারের জন্য ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন ‘ দেশীয় পর্যটকদেরই যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারে এসে কী ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন?’

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গোলাম রব্বানি এ প্রসঙ্গে নাটোর রেলস্টেশনে এক জার্মান পর্যটকের ব্যাগ চুরির ঘটনা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি ১৮ বছর বয়সী জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের (Kirill Lander Weber) ব্যাগ চুরির ঘটনাটি আলোচনায় আসে। তার ব্যাগে ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও জরুরি নথিপত্র ছিল বলে জানা গেছে। গোলাম রব্বানি ঘটনাটিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে কক্সবাজারের সম্ভাবনা অনেক। দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি রয়েছে পাহাড়, দ্বীপ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও নানা ধরনের পর্যটন আকর্ষণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন এক্ষেত্রে প্রয়োজন মানসম্মত আবাসন, নির্ভরযোগ্য পরিবহন, প্রশিক্ষিত গাইড, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, শুধু হোটেল নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক পর্যটন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, মানসম্মত সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটন খাতের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতাও বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন,’ কক্সবাজারে পর্যটন এলাকার বর্জ্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশদূষণও এখন যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ।  পর্যটন মৌসুমে সৈকত থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করতে হয় তাই এক্ষেত্রে নজর দেওয়া উচিত।’

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মোজ্জামেল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত মূল্যতালিকা, অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং অভিযোগ জানানোর সহজ সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে সেবার মান ও দামের স্বচ্ছতা আস্থার বিষয়।’

এদিকে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত জুলাইয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

যেখানে পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নগরসেবা ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার দিকেও নজর দিতে হবে বলে অভিমত ভ্রমণপিয়াসু থেকে শুরু করে স্থানীয়দের।