ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন পাস বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম রাজা পালংয়ের প্রয়াত জননেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের সহধর্মিণীর মৃত্যু : জানাজা বুধবার পেকুয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়লো আমজাদের ড্রাম ট্রাক জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব মগনামায় সরকারি খালে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা : পাহাড়ধসের আশংকা সেন্টমার্টিনে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

হোয়াইক্যংয়ে ১০ টি স্থল মাইনের ট্রিগার অংশ উদ্ধার, আতংকে স্থায়ীনরা

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকা থেকে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় স্থলমাইন পুঁতে রাখে হয়েছে বলে ধারনা স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, আরাকান আর্মি পুঁতে রাখা স্থলমাইন এবং ছোড়া গুলিতে সীমান্তে বসবাসকারীরা হতাহত হচ্ছে। এতে আতঙ্কের দিন পার করছে সীমান্তে বসবাসকারীরা।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। এগুলোতে আপাতত কোনো বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থলমাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট-যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়। সাধারণত একটি স্থলমাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডিটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণ, আইইডি ও এপারে এসে পড়া গুলিতে জেলে, কৃষক ও শিশুসহ নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন।

গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুফাইজা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়, সেই চিন্তায় সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।

নাফ নদীর এক জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদী আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয়। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক এইভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যুভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে টেকনাফের এই জনপদে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।

বিজিবি বলছে, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

সূত্র: সমকাল

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হোয়াইক্যংয়ে ১০ টি স্থল মাইনের ট্রিগার অংশ উদ্ধার, আতংকে স্থায়ীনরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকা থেকে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় স্থলমাইন পুঁতে রাখে হয়েছে বলে ধারনা স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, আরাকান আর্মি পুঁতে রাখা স্থলমাইন এবং ছোড়া গুলিতে সীমান্তে বসবাসকারীরা হতাহত হচ্ছে। এতে আতঙ্কের দিন পার করছে সীমান্তে বসবাসকারীরা।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। এগুলোতে আপাতত কোনো বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থলমাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট-যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়। সাধারণত একটি স্থলমাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডিটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণ, আইইডি ও এপারে এসে পড়া গুলিতে জেলে, কৃষক ও শিশুসহ নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন।

গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুফাইজা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়, সেই চিন্তায় সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।

নাফ নদীর এক জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদী আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয়। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক এইভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যুভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে টেকনাফের এই জনপদে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।

বিজিবি বলছে, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

সূত্র: সমকাল