ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ, বিএনপির নানা কর্মসূচি আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ স্থানীয় যুবককে চট্টগ্রামে প্রেরণ পেকুয়ায় মৎস্য প্রজেক্ট দখলে নিতে গুলিবর্ষণ, আহত ২ কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক শারিকা নুর তাহেরা তুবা কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও সদস্যের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

সুদানে নিহত সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের জানাজা সম্পন্ন

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ শান্তিরক্ষী হলেন— নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনআইএসএফএ) আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী।

হামলায় আহত ৮ জন শান্তিরক্ষীকে দ্রুততম সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারা হলেন—

১। লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান

২। সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, বীর (দিনাজপুর)

৩। কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, সিগনালস (ঢাকা)

৪। ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, ইএমই (বরগুনা)

৫। সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, বীর (কুড়িগ্রাম)

৬। সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, ইঞ্জি. (রংপুর)

৭। সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স (মানিকগঞ্জ)

৮। সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী)

আহতদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এছাড়া বাকিরা শঙ্কামুক্ত। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। তবে শান্তির এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। এ পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন বীর সদস্য (সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ) বিশ্বশান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সুদানের মরুভূমিতে ঝরে যাওয়া এই ৬টি প্রাণ সেই ত্যাগের মিছিলে নতুন নাম, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও মহিমান্বিত করেছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত

সুদানে নিহত সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের জানাজা সম্পন্ন

আপডেট সময় : ১২:৩২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ শান্তিরক্ষী হলেন— নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনআইএসএফএ) আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী।

হামলায় আহত ৮ জন শান্তিরক্ষীকে দ্রুততম সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারা হলেন—

১। লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান

২। সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, বীর (দিনাজপুর)

৩। কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, সিগনালস (ঢাকা)

৪। ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, ইএমই (বরগুনা)

৫। সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, বীর (কুড়িগ্রাম)

৬। সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, ইঞ্জি. (রংপুর)

৭। সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স (মানিকগঞ্জ)

৮। সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী)

আহতদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এছাড়া বাকিরা শঙ্কামুক্ত। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। তবে শান্তির এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। এ পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন বীর সদস্য (সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ) বিশ্বশান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সুদানের মরুভূমিতে ঝরে যাওয়া এই ৬টি প্রাণ সেই ত্যাগের মিছিলে নতুন নাম, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও মহিমান্বিত করেছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট