ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার শহরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আইনজীবীর ছবিতে জুতার মালা: জেলা বারের বিবৃতি ও নিন্দা গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে রোহিঙ্গা নারীকে ছুরিকাঘাত করলো আরসা সদস্যরা, নিয়ে গেছে টাকা ও স্বর্ণ চৌফলদন্ডী ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি ২০২৭ সালেও দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা, তারিখ ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো মির্জা আব্বাস ২০২৫ সালের তুলনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’ বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২

সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার যুবক মো. হানিফ (২২)।

নাফনদী জলসীমায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে তার একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পাটিও আদৌ রক্ষা করা যাবে কি না—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

চমেক হাসপাতালের ৫ম তলার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হানিফের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নে ইমাম হোসেন এসব তথ্য জানান।

ইমাম হোসেন বলেন, গত রোববার রাতে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ হয়। সারারাত গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। পরদিন সোমবার সকালে নিজেদের মাছের ঘেরে রাখা নৌকা ঠিক আছে কি না তা দেখতে সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যান হানিফ।

এ সময় নিজেদের তৈরি করা একটি বেড়িবাঁধ দিয়ে হাঁটার সময় সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আহত অবস্থায় প্রথমে হানিফকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে একটি পা কেটে ফেলতে হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেটিও কেটে ফেলতে হতে পারে।
এদিকে, হানিফের চিকিৎসা নিয়েও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।

ইমাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার অপর পায়ে ড্রেসিংয়ের সময় রক্তের প্রয়োজন হলে তারা নিজেরাই রক্ত সংগ্রহ করে দেন। কিন্তু এরপর নার্স ও সংশ্লিষ্টরা জ্বরের অজুহাত দেখিয়ে ওয়ার্ড ছেড়ে চলে যান। “তারপর থেকে আর কেউ খোঁজ নেয়নি,” অভিযোগ করেন তিনি।

এক পুত্র সন্তানের জনক মো. হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বা বিল এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এখন দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে পুরো পরিবার।

ভাগ্নে ইমাম হোসেন বলেন, “সে বেঁচে থাকলেও সারাজীবন পঙ্গু হয়ে থাকতে হবে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”

সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের এঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ আতংক তৈরি করেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার শহরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা

সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার যুবক মো. হানিফ (২২)।

নাফনদী জলসীমায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে তার একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পাটিও আদৌ রক্ষা করা যাবে কি না—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

চমেক হাসপাতালের ৫ম তলার ৭৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হানিফের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নে ইমাম হোসেন এসব তথ্য জানান।

ইমাম হোসেন বলেন, গত রোববার রাতে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ হয়। সারারাত গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। পরদিন সোমবার সকালে নিজেদের মাছের ঘেরে রাখা নৌকা ঠিক আছে কি না তা দেখতে সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যান হানিফ।

এ সময় নিজেদের তৈরি করা একটি বেড়িবাঁধ দিয়ে হাঁটার সময় সেখানে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আহত অবস্থায় প্রথমে হানিফকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করে একটি পা কেটে ফেলতে হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপর পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেটিও কেটে ফেলতে হতে পারে।
এদিকে, হানিফের চিকিৎসা নিয়েও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা।

ইমাম হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার অপর পায়ে ড্রেসিংয়ের সময় রক্তের প্রয়োজন হলে তারা নিজেরাই রক্ত সংগ্রহ করে দেন। কিন্তু এরপর নার্স ও সংশ্লিষ্টরা জ্বরের অজুহাত দেখিয়ে ওয়ার্ড ছেড়ে চলে যান। “তারপর থেকে আর কেউ খোঁজ নেয়নি,” অভিযোগ করেন তিনি।

এক পুত্র সন্তানের জনক মো. হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বা বিল এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এখন দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে পুরো পরিবার।

ভাগ্নে ইমাম হোসেন বলেন, “সে বেঁচে থাকলেও সারাজীবন পঙ্গু হয়ে থাকতে হবে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”

সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের এঘটনা স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ আতংক তৈরি করেছে।