ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

  • কাব্য সৌরভ
  • আপডেট সময় : ১২:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • 449

মহেশখালী উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে হেফাজতে নিয়েছে মহেশখালী থানা পুলিশ। বিষয়টি টিটিএন-কে নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান।

ওসি জানান, ‘শ্রীলঙ্কার দুই জেলে মহেশখালী থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে তাদের জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে’।

এর আগে গত শুক্রবার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার করে তাঁদের উপকূলে নিয়ে আসেন মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা। ট্রলারটি নিয়ে তাঁরা টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে ছিলেন। এর মধ্যে ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া ওই জেলেরা। শ্রীলঙ্কার ওই দুই নাগরিক সম্পর্কে বাবা-ছেলে। তাঁরা হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে।

গত বুধবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মহেশখালী কুতুবজোমের জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ট্রলারটি। এরপর ওই ট্রলার থেকে দুই জেলেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকেই শ্রীলঙ্কার ওই দুই জেলে মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই জেলে ইশারায় তাঁদের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাঁরা দেশে ফিরতে চান। সঙ্গে নিজেদের নৌকাটিও নিতে চান।

ওই দুই জেলেকে উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, দুই শ্রীলঙ্কান বারবার দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি করছেন। তাঁরা নৌকাটিকেও তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই ছোট্ট নৌকায় এত দূর যাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬ দিন আগে ৪ জন জেলে একটি ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে তা ভেসে আন্দামান সাগরের দিকে চলে যায়। তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় অন্য দুই জেলে দেশের উপকূলে ফিরে যান। তবে নিজেদের ট্রলার হওয়ায় বাবা-ছেলে এতেই থেকে যান। এর সাত-আট দিন পর মিয়ানমারের কিছু লোক তাঁদের ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলে এসে পৌঁছায়। যাত্রা শুরুর সাত দিন পরই তাঁদের মজুত খাবার শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন ধরে তাঁরা বড়শির টোপ হিসেবে রাখা খাবার ও সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি জিয়াউর রহমান বলেন, গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বুধবার রাতে ভাসমান ট্রলারটি তাঁরা দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, ট্রলারে দুজন মানুষ পড়ে আছেন এবং একজনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁরা কড়জোড়ে বাঁচানোর আকুতি জানান। মানবিক কারণে তাঁদের নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং অচল ট্রলারটি রশি দিয়ে বেঁধে গত শুক্রবার রাতে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন।

তবে মহেশখালীর জেলে জিয়াউর রহমান ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উভয় দেশের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া জেলেরা যেনো নিজ মাতৃভূমিতে নিজেদের পরিবারে ফিরতে পারেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

আপডেট সময় : ১২:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মহেশখালী উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে হেফাজতে নিয়েছে মহেশখালী থানা পুলিশ। বিষয়টি টিটিএন-কে নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান।

ওসি জানান, ‘শ্রীলঙ্কার দুই জেলে মহেশখালী থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে তাদের জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে’।

এর আগে গত শুক্রবার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার করে তাঁদের উপকূলে নিয়ে আসেন মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা। ট্রলারটি নিয়ে তাঁরা টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে ছিলেন। এর মধ্যে ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া ওই জেলেরা। শ্রীলঙ্কার ওই দুই নাগরিক সম্পর্কে বাবা-ছেলে। তাঁরা হলেন এস এইচ চামিন্দা ও তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে।

গত বুধবার রাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মহেশখালী কুতুবজোমের জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ট্রলারটি। এরপর ওই ট্রলার থেকে দুই জেলেকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসা হয়। এর পর থেকেই শ্রীলঙ্কার ওই দুই জেলে মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই জেলে ইশারায় তাঁদের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাঁরা দেশে ফিরতে চান। সঙ্গে নিজেদের নৌকাটিও নিতে চান।

ওই দুই জেলেকে উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, দুই শ্রীলঙ্কান বারবার দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি করছেন। তাঁরা নৌকাটিকেও তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই ছোট্ট নৌকায় এত দূর যাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬ দিন আগে ৪ জন জেলে একটি ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে যান। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে তা ভেসে আন্দামান সাগরের দিকে চলে যায়। তিন দিন পর অন্য একটি নৌকার সহায়তায় অন্য দুই জেলে দেশের উপকূলে ফিরে যান। তবে নিজেদের ট্রলার হওয়ায় বাবা-ছেলে এতেই থেকে যান। এর সাত-আট দিন পর মিয়ানমারের কিছু লোক তাঁদের ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলে এসে পৌঁছায়। যাত্রা শুরুর সাত দিন পরই তাঁদের মজুত খাবার শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা ২৯ দিন ধরে তাঁরা বড়শির টোপ হিসেবে রাখা খাবার ও সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি জিয়াউর রহমান বলেন, গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় বুধবার রাতে ভাসমান ট্রলারটি তাঁরা দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, ট্রলারে দুজন মানুষ পড়ে আছেন এবং একজনের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাঁরা কড়জোড়ে বাঁচানোর আকুতি জানান। মানবিক কারণে তাঁদের নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং অচল ট্রলারটি রশি দিয়ে বেঁধে গত শুক্রবার রাতে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন।

তবে মহেশখালীর জেলে জিয়াউর রহমান ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উভয় দেশের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া জেলেরা যেনো নিজ মাতৃভূমিতে নিজেদের পরিবারে ফিরতে পারেন।