ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় পাইপ বসাতে কাটা হয়েছিলো বেড়িবাঁধ, স্কেভেটর জব্দ লামায় রাবার শ্রমিক অপহরণ, স্বামীকে জীবিত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর আকুতি দেশের সব ডিসির জন্য জরুরি নির্দেশনা ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা করার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান কূটনীতিক প্রক্রিয়ায় বেনজীরকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিক হিসেবে সকলের দায়িত্ব রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষরকে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর: ৫ আগস্ট ‘ভার্চুয়ালি সামনে আসছেন’ হাসিনা নিখোঁজ রাজমিস্ত্রীর সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি পালংখালী তে যুবদল নেতার ‘মাদক’ সিন্ডিকেট! ৫০ হাজার ইয়াবা ছিনতাই প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ মন্ত্রীর ১০ বছরে ১৯টি দুর্ঘটনা শেষে মৃত্যু, লাইসেন্স ছাড়া চলছিল কক্সবাজারের প্যারাসেইলিং

​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান

​বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ২৫.২৫ মিলিয়ন AUD) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

​অস্ট্রেলিয়ার ‘২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) এই অর্থ প্রদান করা হবে।

​সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সফররত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক, বহুসংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

​বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন নানা সংকটের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অনুদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​সহায়তার মূল ক্ষেত্রসমূহ:

​সুরক্ষা ও মৌলিক সেবা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

​দক্ষতা উন্নয়ন: বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা।

​দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি কমানোর কাজ অব্যাহত রাখা।

​অনুষ্ঠানকালে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে এর টেকসই সমাধান কেবল মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই সম্ভব।”।

​বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে চলমান এই সংকট যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে হারিয়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে তীব্র নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক অর্থসংকটের কারণে মৌলিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেকেই জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাবার চেষ্টা করছেন। নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় এই অর্থায়ন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় পাইপ বসাতে কাটা হয়েছিলো বেড়িবাঁধ, স্কেভেটর জব্দ

​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান

আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

​বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ২৫.২৫ মিলিয়ন AUD) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

​অস্ট্রেলিয়ার ‘২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) এই অর্থ প্রদান করা হবে।

​সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সফররত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক, বহুসংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

​বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন নানা সংকটের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অনুদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​সহায়তার মূল ক্ষেত্রসমূহ:

​সুরক্ষা ও মৌলিক সেবা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

​দক্ষতা উন্নয়ন: বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা।

​দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি কমানোর কাজ অব্যাহত রাখা।

​অনুষ্ঠানকালে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে এর টেকসই সমাধান কেবল মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই সম্ভব।”।

​বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে চলমান এই সংকট যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে হারিয়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে তীব্র নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক অর্থসংকটের কারণে মৌলিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেকেই জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাবার চেষ্টা করছেন। নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় এই অর্থায়ন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।