ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের কমিটি : সভাপতি মুন্না, সম্পাদক রেজাউল সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ-সোহেল কে কারাগারে প্রেরণ উখিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া রাতে ইয়াবাসহ আটক, পরদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আটক হওয়া ব্যক্তি হারলেও উখিয়া দলের যে দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়েছে সবার কক্সবাজারে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ে দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু রামুতে ভোক্তা অধিকার অভিযান : ২৭ হাজার টাকা জরিমানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান

​বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ২৫.২৫ মিলিয়ন AUD) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

​অস্ট্রেলিয়ার ‘২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) এই অর্থ প্রদান করা হবে।

​সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সফররত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক, বহুসংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

​বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন নানা সংকটের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অনুদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​সহায়তার মূল ক্ষেত্রসমূহ:

​সুরক্ষা ও মৌলিক সেবা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

​দক্ষতা উন্নয়ন: বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা।

​দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি কমানোর কাজ অব্যাহত রাখা।

​অনুষ্ঠানকালে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে এর টেকসই সমাধান কেবল মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই সম্ভব।”।

​বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে চলমান এই সংকট যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে হারিয়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে তীব্র নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক অর্থসংকটের কারণে মৌলিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেকেই জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাবার চেষ্টা করছেন। নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় এই অর্থায়ন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট!

​রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান

আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

​বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ২৫.২৫ মিলিয়ন AUD) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

​অস্ট্রেলিয়ার ‘২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) এই অর্থ প্রদান করা হবে।

​সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সফররত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক, বহুসংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই অনুদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

​বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন নানা সংকটের মুখে, ঠিক সেই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার এই বহুবর্ষী ও নমনীয় অনুদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​সহায়তার মূল ক্ষেত্রসমূহ:

​সুরক্ষা ও মৌলিক সেবা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

​দক্ষতা উন্নয়ন: বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা।

​দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: ঘনবসতিপূর্ণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি কমানোর কাজ অব্যাহত রাখা।

​অনুষ্ঠানকালে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে এর টেকসই সমাধান কেবল মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই সম্ভব।”।

​বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে চলমান এই সংকট যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থেকে হারিয়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

​উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে তীব্র নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক অর্থসংকটের কারণে মৌলিক সেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেকেই জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাবার চেষ্টা করছেন। নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় এই অর্থায়ন জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।