ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আবারও পাল্টালো পুলিশের পোশাক কক্সবাজার পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা, তৃণমূলে আলোচনায় কারানির্যাতিত ছাত্রদল নেতা রায়হান বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে কক্সবাজারে বিএসপিএ’র আলোচনা সভা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বাংলাদেশের পাশে আছে চীন : রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে সংঘর্ষ : সতর্ক অবস্থানে বিজিবি,ড্রোন দিয়ে নজরদারি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক মাদক মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ গ্রেফতার টেকনাফে বিজিবির অভিযান, বিপুল পরিমাণ আইস ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সৈকতের বালুচরে ছুটছে ‘মেসি’, স্বপ্নে আর্জেন্টিনার শিরোপা লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে সাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারসহ সারা দেশে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ পালন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ঈদগাঁওতে চার সন্তানের মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি?

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 547

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়। এ মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

যে ব্যক্তি রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, সে সত্যিকার অর্থেই সফল। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে অবহেলা না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছুর ধোঁয়া গলার ভেতরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়; তাই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সিগারেট পান করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ সিগারেট পানকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সিগারেটের নেশাযুক্ত ধোঁয়া গলা ও মস্তিষ্কে পৌঁছায়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৬: ৪১৫–৪১৬, প্রশ্ন: ১১২)

আর যদি কেউ রমজানে রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় সিগারেট পান করে, তাহলে তার উপর কাজা সহ কাফফারাও ওয়াজিব হবে। (আপ কে মাসায়েল আওর উন কা হাল’ ৪: ৫৭৬, মুদ্রিত: কুতুবখানা নাইমিয়া দেওবন্দ)।

যদি কোনো ব্যক্তি রোজাদারের পাশে সিগারেট পান করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজাদারের গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না; কারণ তার পক্ষে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। কেননা সে যদি মুখ বন্ধও করে, তবুও নাকের মাধ্যমে ধোঁয়া ভেতরে চলে যাবে।

তবে যদি রোজাদার ইচ্ছাকৃতভাবে গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব হবে; তবে কাফফারা নয়।

সুতরাং আগরবাতি বা সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করতে হবে; কারণ রোজাদারের পক্ষে এ ধোঁয়া থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল।

ধূমপান ও তামাক সেবন প্রয়োজনীয় নয় এবং উপকারীও নয়; বরং শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি সম্পূর্ণ অপচয়ের শামিল। ইসলামি বিধানে অপচয় করা হারাম; অপচয়কারী শয়তানের ভাই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং কিছুতেই অপব্যয় কোরো না; নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই; আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (আল কোরআন, সুরা-১৭ ৫০)

নিজের ক্ষতি করার যেমন এখতিয়ার নেই, তেমনি অন্যের ক্ষতি করাও জায়েজ নয়। একজন ধূমপায়ী নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি করে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।

যারা ধূমপান করে বা তামাক সেবন করে, তাদের মুখে ও শরীরে একধরনের উৎকট বিশ্রী দুর্গন্ধ ছড়ায়; যা পাশের মানুষের কষ্টের কারণ হয় এবং তা হারাম ও নাজায়েজ।

তাই আসুন, যাদের ধূমপানের বা তামাক সেবনের বদভ্যাস আছে, তারা ইবাদতের সোনালি সময় পবিত্র রমজানের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাই। এখনই দৃঢ় সংকল্প করি ‘ধূমপান করিনি, করব না; ধূমপান ছেড়েছি, আর ধরব না।’ ‘তামাক সেবন করব না; ছেড়েছি আর ধরব না।’

মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি?

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়। এ মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

যে ব্যক্তি রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, সে সত্যিকার অর্থেই সফল। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে অবহেলা না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছুর ধোঁয়া গলার ভেতরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়; তাই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সিগারেট পান করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ সিগারেট পানকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সিগারেটের নেশাযুক্ত ধোঁয়া গলা ও মস্তিষ্কে পৌঁছায়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৬: ৪১৫–৪১৬, প্রশ্ন: ১১২)

আর যদি কেউ রমজানে রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় সিগারেট পান করে, তাহলে তার উপর কাজা সহ কাফফারাও ওয়াজিব হবে। (আপ কে মাসায়েল আওর উন কা হাল’ ৪: ৫৭৬, মুদ্রিত: কুতুবখানা নাইমিয়া দেওবন্দ)।

যদি কোনো ব্যক্তি রোজাদারের পাশে সিগারেট পান করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজাদারের গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না; কারণ তার পক্ষে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। কেননা সে যদি মুখ বন্ধও করে, তবুও নাকের মাধ্যমে ধোঁয়া ভেতরে চলে যাবে।

তবে যদি রোজাদার ইচ্ছাকৃতভাবে গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব হবে; তবে কাফফারা নয়।

সুতরাং আগরবাতি বা সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করতে হবে; কারণ রোজাদারের পক্ষে এ ধোঁয়া থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল।

ধূমপান ও তামাক সেবন প্রয়োজনীয় নয় এবং উপকারীও নয়; বরং শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি সম্পূর্ণ অপচয়ের শামিল। ইসলামি বিধানে অপচয় করা হারাম; অপচয়কারী শয়তানের ভাই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং কিছুতেই অপব্যয় কোরো না; নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই; আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (আল কোরআন, সুরা-১৭ ৫০)

নিজের ক্ষতি করার যেমন এখতিয়ার নেই, তেমনি অন্যের ক্ষতি করাও জায়েজ নয়। একজন ধূমপায়ী নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি করে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।

যারা ধূমপান করে বা তামাক সেবন করে, তাদের মুখে ও শরীরে একধরনের উৎকট বিশ্রী দুর্গন্ধ ছড়ায়; যা পাশের মানুষের কষ্টের কারণ হয় এবং তা হারাম ও নাজায়েজ।

তাই আসুন, যাদের ধূমপানের বা তামাক সেবনের বদভ্যাস আছে, তারা ইবাদতের সোনালি সময় পবিত্র রমজানের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাই। এখনই দৃঢ় সংকল্প করি ‘ধূমপান করিনি, করব না; ধূমপান ছেড়েছি, আর ধরব না।’ ‘তামাক সেবন করব না; ছেড়েছি আর ধরব না।’

মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর