ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।