ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব সমুদ্র শহরের ‘চন্দন ডাক্তার’কে হারানোর এক বছর, আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় প্রথম নাবিহা নওরিন কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার

মিয়ানমারের ওপার থেকে উখিয়া-টেকনাফে এল বি ক ট শব্দ

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বসতঘর। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক দফা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে একাধিক বিকট শব্দ ভেসে আসে, যা সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এছাড়া উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু পাথর কাটা ও চাকমা পাড়া সীমান্ত এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাহমুদুল হাসান ও আজিজুল হক রানা টাইমসকে জানান, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা সরকার বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব বিমান হামলার ফলেই বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর হাঁসের দ্বীপ, বিলাইচ্ছর দ্বীপ ও তোতার দ্বীপের দখল নিয়ে মিয়ানমার অংশ থেকে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব গোলাগুলি ও মর্টারশেলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি গুলি বাংলাদেশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ধানক্ষেতেও এসে পড়ে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মিয়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।