ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ  মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২৩ সাড়ে ৬ বছরে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ হাজার ৩৮৪ জন Scars Still Fresh, Yet Flood Victims in Chakaria Strive to Rebuild Their Lives এখনো মুছেনি ক্ষত, তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির ‘কারখানা’, ঢাকাসহ আশপাশে চলত সরবরাহ লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮ নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী ‘You have your home! We miss our home!’: মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

প্রতিবছর পৃথিবীর ১৭০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ অথবা বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালন করা হয়ে আসছে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে উৎসাহ দিতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করেছিল। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তি, সংস্থা ও সরকার দ্বারা ১৭০টিরও বেশি দেশে এটি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বত্র স্তন্যদানের জন্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সপ্তাহ পালনে বিশেষ উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত “ব্রেস্টফিডিং ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি : এপিডেমিওলজি, মেকানিজমস অ্যান্ড লাইফ লং ইফেক্ট” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে এবং পরবর্তী জীবনে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ পানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো গেলে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একই গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দেওয়া হলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া, দ্য ল্যানসেট ব্রেস্টফিডিং সিরিজে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান কম হওয়ার কারণে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। গবেষকরা তাই জন্মের পরপরই স্তন্যপান শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস একচেটিয়াভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিবছর পৃথিবীর ১৭০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ অথবা বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালন করা হয়ে আসছে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে উৎসাহ দিতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করেছিল। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তি, সংস্থা ও সরকার দ্বারা ১৭০টিরও বেশি দেশে এটি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বত্র স্তন্যদানের জন্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সপ্তাহ পালনে বিশেষ উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত “ব্রেস্টফিডিং ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি : এপিডেমিওলজি, মেকানিজমস অ্যান্ড লাইফ লং ইফেক্ট” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে এবং পরবর্তী জীবনে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ পানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো গেলে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একই গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দেওয়া হলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া, দ্য ল্যানসেট ব্রেস্টফিডিং সিরিজে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান কম হওয়ার কারণে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। গবেষকরা তাই জন্মের পরপরই স্তন্যপান শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস একচেটিয়াভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট