ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের কমিটি : সভাপতি মুন্না, সম্পাদক রেজাউল সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ-সোহেল কে কারাগারে প্রেরণ উখিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া রাতে ইয়াবাসহ আটক, পরদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আটক হওয়া ব্যক্তি হারলেও উখিয়া দলের যে দৃশ্য হৃদয় ছুঁয়েছে সবার কক্সবাজারে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ে দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু রামুতে ভোক্তা অধিকার অভিযান : ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

প্রতিবছর পৃথিবীর ১৭০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ অথবা বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালন করা হয়ে আসছে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে উৎসাহ দিতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করেছিল। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তি, সংস্থা ও সরকার দ্বারা ১৭০টিরও বেশি দেশে এটি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বত্র স্তন্যদানের জন্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সপ্তাহ পালনে বিশেষ উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত “ব্রেস্টফিডিং ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি : এপিডেমিওলজি, মেকানিজমস অ্যান্ড লাইফ লং ইফেক্ট” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে এবং পরবর্তী জীবনে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ পানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো গেলে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একই গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দেওয়া হলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া, দ্য ল্যানসেট ব্রেস্টফিডিং সিরিজে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান কম হওয়ার কারণে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। গবেষকরা তাই জন্মের পরপরই স্তন্যপান শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস একচেটিয়াভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার

মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিবছর পৃথিবীর ১৭০টিরও বেশি দেশে ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ অথবা বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালন করা হয়ে আসছে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে উৎসাহ দিতে এবং শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ।

১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করেছিল। বর্তমানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তি, সংস্থা ও সরকার দ্বারা ১৭০টিরও বেশি দেশে এটি পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী বুকের দুধ খাওয়ানোর চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বত্র স্তন্যদানের জন্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএবিএ গঠিত হয়েছিল।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সপ্তাহ পালনে বিশেষ উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত “ব্রেস্টফিডিং ইন দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি : এপিডেমিওলজি, মেকানিজমস অ্যান্ড লাইফ লং ইফেক্ট” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে এবং পরবর্তী জীবনে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়েদের স্তন ক্যানসার ও ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ পানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো গেলে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৮ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

একই গবেষণায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না দেওয়া হলে সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ ছাড়া, দ্য ল্যানসেট ব্রেস্টফিডিং সিরিজে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ পান কম হওয়ার কারণে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটে। গবেষকরা তাই জন্মের পরপরই স্তন্যপান শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস একচেটিয়াভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষ্যে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট