ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন: রাষ্ট্রের সোনার খনি, লাভের গুড় খাবে কে? আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর উখিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ শাহপরীরদ্বীপে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কবিরের, শনাক্ত করল পরিবার টেকনাফে আসামি ধরতে গিয়ে গর্ভবতী নারীকে লাথি মারার অভিযোগ এসআই দুলালের বিরুদ্ধে: অভিযোগ সঠিক নয় – ওসি লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকারের গোপন চেম্বারে ১৬ হাজার ইয়াবা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪ আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ম্যাজিস্ট্রেট এড়িয়ে গেলেও ডিসি বললেন- অগোচরে চলছিল প্যারাসেইলিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, আসছে আরও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে ৭৬ কেজি গাঁজা, একাধিক মামলার আসামিসহ আটক ২ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস

মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজকের কক্সবাজার বার্তা’ পত্রিকার প্রতিবেদক নুরুল আলম সাগর (এন.এ সাগর) গত ১০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে মোবাইল কলের মাধ্যমে হুমকির শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (২২) তার মুঠোফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরিয়ে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় মারধর ও হয়রানিরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ ঘটনায় আজিমের মামা মোস্তাক আহমদের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করে রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে (জিডি নং-৬০২, তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬)। জিডিতে সাংবাদিক সাগর দাবি করেন, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

সাংবাদিক সাগরের ভাষ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং টাইংগাকাটা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব (বাদশা) নামে দুজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধে জড়িত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চক্রটি দরিদ্র যুবকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সাত যুবককে এভাবে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তারা থাইল্যান্ডে গিয়ে আটক হন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মানবপাচারের পাশাপাশি অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। গত ৩০ মার্চ দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে নারী, শিশু ও পুরুষদের সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে সাগরপথে পাচার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” একইভাবে নুরুল করিবও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হুমকির শিকার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ নিশ্চিত করেছেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামু ক্রাইম রিপোর্টার ইউনিটির আহ্বায়ক মো. সাঈদুজ্জামানের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা মানবপাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য, “এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাসি-কান্নায় বিদায় নিল উখিয়া কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা

মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

আপডেট সময় : ০১:২১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে জনপ্রিয় দৈনিক ‘আজকের কক্সবাজার বার্তা’ পত্রিকার প্রতিবেদক নুরুল আলম সাগর (এন.এ সাগর) গত ১০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে মোবাইল কলের মাধ্যমে হুমকির শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (২২) তার মুঠোফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরিয়ে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় মারধর ও হয়রানিরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ ঘটনায় আজিমের মামা মোস্তাক আহমদের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করে রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে (জিডি নং-৬০২, তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬)। জিডিতে সাংবাদিক সাগর দাবি করেন, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

সাংবাদিক সাগরের ভাষ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং টাইংগাকাটা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব (বাদশা) নামে দুজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধে জড়িত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চক্রটি দরিদ্র যুবকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সাত যুবককে এভাবে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তারা থাইল্যান্ডে গিয়ে আটক হন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মানবপাচারের পাশাপাশি অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। গত ৩০ মার্চ দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে নারী, শিশু ও পুরুষদের সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে সাগরপথে পাচার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” একইভাবে নুরুল করিবও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হুমকির শিকার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ নিশ্চিত করেছেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামু ক্রাইম রিপোর্টার ইউনিটির আহ্বায়ক মো. সাঈদুজ্জামানের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা মানবপাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তার ভাষ্য, “এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”