ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০ মরদেহ হস্তান্তরের দিন উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ : নিহত বেড়ে ১১ ১০ দিন পর মিলল মুক্তার দেহাবশেষ, গলার লকেটেই স্ত্রীকে চিনলেন স্বামী কক্সবাজারে এসে পৌঁছাল মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম ট্রেন, পর্যটন মৌসুমে বাড়তি সুবিধার আশা পর্যটনের পাশাপাশি সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাবে কক্সবাজার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পেকুয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেনের ইন্তেকাল জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’, সারাদেশে বৃষ্টির আভাস টেকনাফের বাহারছড়ার রিদুয়ান বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহিম আটক মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ইনানী চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি খোকন চেয়ারম্যানের : চাইলেন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত কুতুবজোমের উন্নয়ন ও নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. রহিম উল্লাহ টুপটুপের মামলায় ওসি তলব- ‘আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ’ পাটুয়ারটেক ট্রাজেডি, ডিএনএ টেস্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে, মিলেনি ছাত্রদল নেতার স্ত্রীর পরিচয় কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, যুক্ত হলো মহানগর এক্সপ্রেস নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলার উপ কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ সাঈদ চট্রগ্রামে আটক

কউক’র উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন- কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান চুড়ান্ত হচ্ছে

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে কক্সবাজারে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কউক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

র‍্যালি শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কউক সচিব সানজিদা বেগম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে মেগা মাস্টারপ্ল্যান। ২০২৬ সালের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নাগরিক সেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সেমিনারে জানানো হয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী বিচ এলাকাকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ইকো-রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগকে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো: তানভীর হাসান রেজাউল ও সিস্টেম এনালিস্ট হেলাল উদ্দীন হেজাযী।

দিবসটি ঘিরে কউক ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত সেবা স্টলের মাধ্যমে দিনভর আগত দর্শনার্থীদের সেবা প্রদানসহ নানা তথ্য প্রদান করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১০ মরদেহ হস্তান্তরের দিন উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ : নিহত বেড়ে ১১

কউক’র উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন- কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান চুড়ান্ত হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে কক্সবাজারে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কউক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

র‍্যালি শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন কউক সচিব সানজিদা বেগম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে মেগা মাস্টারপ্ল্যান। ২০২৬ সালের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নাগরিক সেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সেমিনারে জানানো হয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী বিচ এলাকাকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ইকো-রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগকে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিনারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো: তানভীর হাসান রেজাউল ও সিস্টেম এনালিস্ট হেলাল উদ্দীন হেজাযী।

দিবসটি ঘিরে কউক ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত সেবা স্টলের মাধ্যমে দিনভর আগত দর্শনার্থীদের সেবা প্রদানসহ নানা তথ্য প্রদান করা হয়।