কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। একই দিন রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে পাঁচ পরিবারের ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রতিটি পরিবারকে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের হাতে মরদেহগুলো তুলে দেন। এ সময় পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার আমিনুল ইসলাম খান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার মো. নুরুল আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৫), তাঁদের ছেলে ফাইজান (৫), ফারিয়ার ছোট ভাই নাফিজ তেহামী জেরিফ এবং ফারিয়ার তিন খালাতো বোন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা ও মেলিতা মেহেজাবিন আলভী।
অন্যদিকে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তার এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোবাইনা আক্তার ও সুনাইনা আক্তারের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ গ্রহণের পর আমিনুল ইসলাম খান বলেন, তাঁদের পরিবারের ছয়জন এবং যশোরের পরিবারের চারজনের মরদেহ প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে। ১০ দিন পর স্বজনদের মরদেহ পেয়ে তাঁরা বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। সকালে উখিয়া থানা পুলিশ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে আবারও তল্লাশি শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, সোমবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার অনানুষ্ঠানিক তথ্য থেকে একজনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপসহ আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালানো হয়।
দীর্ঘ ১০ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় মুক্তার দেহাবশেষ অনেকটা কঙ্কালসদৃশ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল গলায় থাকা লকেট দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তাঁরা ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে তাঁর দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। মুক্তা তখন রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তাঁর দুই বান্ধবী প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি তিনি।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলা টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই দিন ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করে। ১০ দিন পর মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ জনে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 























