টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ডলু, টংকাবতী ও হাঙ্গর খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনটি খালেই এখন থৈ থৈ পানি। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডলু, টংকাবতী ও হাঙ্গর খালের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে খালের তীর ভাঙ্গছে। কোথাও কোথাও মাটি ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আগামী কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ভাঙনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই খালের পানি বাড়ে। তবে এবার মৌসুমের শুরুতেই পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
এতে খালের তীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আধুনগর ইউনিয়নের সরর্দানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ডলু খালের সরর্দানীপাড়া অংশে ভাঙন দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি প্রবেশ করছে। খালের পানি আরও বাড়লে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ডলু খালের তীব্র স্রোতে পুটিবিলা মিয়াপাড়া কবরস্থান-সংলগ্ন সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
আমিরাবাদ রাজঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী রাব্বি বলেন, “টংকাবতী খালের সেতুর নিচে বটতলীর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনিতেই খালে পানি উপচে পড়ছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে চরম্বা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া-মদিনারপাড়া গ্রামীণ সড়কের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গেছে। অবশিষ্ট অংশও ভেঙে গেলে খালের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপকভাবে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া এলাকায় হাঙ্গর খালের ভয়াবহ ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে প্রধান চলাচলের সড়কের একটি বড় অংশ খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, “সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই খালের তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লোহাগাড়া প্রতিনিধি 



















