ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওএমের গাড়ির ধাক্কা, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা টেকনাফে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, বিচার দাবিতে পরিবারের আহাজারি যুদ্ধ থেমেছে, ক্ষতের চিহ্ন কি মুছবে? বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারে শুরু হলো তিনদিনের জাতীয় ফল মেলা কুতুবদিয়া পাড়া বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি মনোনীত মনির উল্লাহ (আবির) ইয়াবা সেবনের আসরে অভিযান, অস্ত্র-ইয়াবা,নগদ টাকা সহ আটক:২ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা সারাদেশে এবার অভিন্ন প্রশ্নে বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে: শিক্ষামন্ত্রী যেখানে অ্যাম্বুলেন্স নয়, রোগী চলে মানুষের কাঁধে অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা রোনালদো বললেন, মেসিই সর্বকালের সেরা হজের খরচ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মানবিক সহায়তা জোরদার ও নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং বৈধ উপায়ে আয় করেন, তাদের প্রতি এটি এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে না; বরং দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের নীতি সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

আজ ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) ফরিদপুর জেলা পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম চাপে রয়েছে।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, সরকার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর নতুন ব্যয়ের বোঝা চাপিয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। এভাবে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে সারাদেশে হত্যার শিকার হয়েছে ৯১৫ জন। এছাড়া অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে সংসদে গৃহীত আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণের জীবন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হতে পারে না। যখন সীমান্তে রক্ত ঝরছে এবং একের পর এক পুশইনের ঘটনা ঘটছে, তখন এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি দ্রুত জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষায় সরকার কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি এখন একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। দুই ঈদে শত শত মানুষের মৃত্যু এবং সারাবছরব্যাপী দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে পরিবহন খাতে কার্যকর সংস্কার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পূর্বের অবস্থান ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি জনগণকে হতাশ করেছে। জনগণ প্রতিশ্রুত সংস্কারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়, অবস্থানের পরিবর্তন নয়।

তিনি জাতীয় স্বার্থ, সুশাসন, আইনের শাসন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান এবং দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা আমীর মাওলানা বদরুদ্দীন, জেলা নায়েবে আমীর মো: ইমতিয়াজ আহমেদ, আবু হারিচ মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, জেলা কর্মপরিষদ সদসস্যবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের জেলা ও শহর নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওএমের গাড়ির ধাক্কা, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং বৈধ উপায়ে আয় করেন, তাদের প্রতি এটি এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে না; বরং দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের নীতি সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

আজ ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) ফরিদপুর জেলা পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম চাপে রয়েছে।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, সরকার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর নতুন ব্যয়ের বোঝা চাপিয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। এভাবে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে সারাদেশে হত্যার শিকার হয়েছে ৯১৫ জন। এছাড়া অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে সংসদে গৃহীত আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণের জীবন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হতে পারে না। যখন সীমান্তে রক্ত ঝরছে এবং একের পর এক পুশইনের ঘটনা ঘটছে, তখন এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি দ্রুত জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষায় সরকার কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি এখন একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। দুই ঈদে শত শত মানুষের মৃত্যু এবং সারাবছরব্যাপী দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে পরিবহন খাতে কার্যকর সংস্কার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পূর্বের অবস্থান ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি জনগণকে হতাশ করেছে। জনগণ প্রতিশ্রুত সংস্কারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়, অবস্থানের পরিবর্তন নয়।

তিনি জাতীয় স্বার্থ, সুশাসন, আইনের শাসন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান এবং দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা আমীর মাওলানা বদরুদ্দীন, জেলা নায়েবে আমীর মো: ইমতিয়াজ আহমেদ, আবু হারিচ মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, জেলা কর্মপরিষদ সদসস্যবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের জেলা ও শহর নেতৃবৃন্দ।