ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার

‘বাংলাদেশি রোগী দেখব না’ ঘোষণার বিরোধিতা কলকাতার চিকিৎসকদের

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা ও ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে “বাংলাদেশি রোগী দেখব না” বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কয়েকটি হাসপাতাল এবং কয়েকজন চিকিৎসক। যদিও এই ঘোষণার বিরোধিতা করে আসছে কলকাতার কয়েকটি বড় হাসপাতাল ও ডাক্তারদের একটা বড় অংশ। কলকাতার চিকিৎসকদের ও হাসপাতালগুলোর সংগঠনও বলছে, রোগীদের কোনো জাত, ধর্ম না দেখেই চিকিৎসা করা তাদের কর্তব্য।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পূর্ব ভারতের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সংগঠন জানিয়েছে বাংলাদেশের রোগী আসা প্রায় ৭০% কমে গেছে। ফলে যেসব হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের ওপর অনেকতাই নির্ভরশীল ছিল, তাদের কাছে এটা বড় ধাক্কা।

কলকাতার একটি হাসপাতাল ও দুইজন চিকিৎসকের বাংলাদেশি রোগী না দেখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকও।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মানস গুমটা বিবিসিকে বলেছেন, “একজন চিকিৎসক হিসাবে কোনো বিশেষ দেশের বা বিশেষ ধর্মের রোগী দেখব না এটা বলা যায় না। ডাক্তার হতে গেলে যে শপথ নিতে হয়, এ ধরনের কথা তার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অপরাধীও আমাদের কাছে রোগী হিসাবে এলে তার চিকিৎসা করাটাই আমাদের অন্যতম শপথ।”

তার কথায়, “এটা একজন ডাক্তার হিসাবে এবং সংগঠন হিসাবে নৈতিকভাবে আমরা এটা বলতে পারি না ঠিকই, কিন্তু যে অল্প কয়েকজন ডাক্তার এরকম ঘোষণা করেছেন, তারা গভীর মানসিক যন্ত্রণা থেকেই এরকম বলেছেন বলে আমার ধারণা। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তাতে বিচলিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে- সেই যন্ত্রণা থেকেই হয়ত কয়েকজন ডাক্তার বা হাসপাতাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অফিসার রূপক বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, “একজন রোগী তো রোগীই- তার তো কোনো জাত-ধর্ম থাকতে পারে না। আমাদের দায়িত্ব তিনি এলে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। বাংলাদেশি রোগী দেখব না, এটা বলা যায় না।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

‘বাংলাদেশি রোগী দেখব না’ ঘোষণার বিরোধিতা কলকাতার চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০২:৪২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা ও ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে “বাংলাদেশি রোগী দেখব না” বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কয়েকটি হাসপাতাল এবং কয়েকজন চিকিৎসক। যদিও এই ঘোষণার বিরোধিতা করে আসছে কলকাতার কয়েকটি বড় হাসপাতাল ও ডাক্তারদের একটা বড় অংশ। কলকাতার চিকিৎসকদের ও হাসপাতালগুলোর সংগঠনও বলছে, রোগীদের কোনো জাত, ধর্ম না দেখেই চিকিৎসা করা তাদের কর্তব্য।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পূর্ব ভারতের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সংগঠন জানিয়েছে বাংলাদেশের রোগী আসা প্রায় ৭০% কমে গেছে। ফলে যেসব হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের ওপর অনেকতাই নির্ভরশীল ছিল, তাদের কাছে এটা বড় ধাক্কা।

কলকাতার একটি হাসপাতাল ও দুইজন চিকিৎসকের বাংলাদেশি রোগী না দেখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকও।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মানস গুমটা বিবিসিকে বলেছেন, “একজন চিকিৎসক হিসাবে কোনো বিশেষ দেশের বা বিশেষ ধর্মের রোগী দেখব না এটা বলা যায় না। ডাক্তার হতে গেলে যে শপথ নিতে হয়, এ ধরনের কথা তার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অপরাধীও আমাদের কাছে রোগী হিসাবে এলে তার চিকিৎসা করাটাই আমাদের অন্যতম শপথ।”

তার কথায়, “এটা একজন ডাক্তার হিসাবে এবং সংগঠন হিসাবে নৈতিকভাবে আমরা এটা বলতে পারি না ঠিকই, কিন্তু যে অল্প কয়েকজন ডাক্তার এরকম ঘোষণা করেছেন, তারা গভীর মানসিক যন্ত্রণা থেকেই এরকম বলেছেন বলে আমার ধারণা। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তাতে বিচলিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে- সেই যন্ত্রণা থেকেই হয়ত কয়েকজন ডাক্তার বা হাসপাতাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অফিসার রূপক বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, “একজন রোগী তো রোগীই- তার তো কোনো জাত-ধর্ম থাকতে পারে না। আমাদের দায়িত্ব তিনি এলে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। বাংলাদেশি রোগী দেখব না, এটা বলা যায় না।”