ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেনারেটরে ওড়না পেঁচিয়ে আইওএমের নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু ২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক দর্শকের ঢল সামলাতে ব্যর্থ জেলা স্টেডিয়াম: আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি! উখিয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চকরিয়ায় বসতঘরে অভিযান, ইয়াবা-গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী কারবারি গ্রেপ্তার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে খেলতে চায় ব্রাজিল বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

বন্য হাতির আক্রমণে ধান পাহারায় থাকা কৃষকের মৃত্যু

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিনও আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আকেটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, “ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।” তিনি মন্তব্য করেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “তাঁর বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।”

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, “সরকারিভাবে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”

জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েলের দাবি, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এর স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা

বন্য হাতির আক্রমণে ধান পাহারায় থাকা কৃষকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিনও আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আকেটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, “ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।” তিনি মন্তব্য করেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “তাঁর বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।”

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, “সরকারিভাবে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”

জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েলের দাবি, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এর স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।”