ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি! সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি— লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি জানাজায় কান্নার কলরবে ইয়াসেরের বিদায় লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’ চার-পাঁচ মাসের ম‌ন্ত্রিত্বের অ‌ভিজ্ঞতায় দে‌খে‌ছি, কিছুই বদলায়নি: মির্জা ফখরুল। রামুতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক ঈদগাঁওয়ে মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ড পেকুয়ায় আগুনে পুড়লো পাঁচ ভাইয়ের বসতঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া ও মাতামুহুরির ২০০ পরিবারের পাশে উইটনেস ফাউন্ডেশন

বন্য হাতির আক্রমণে ধান পাহারায় থাকা কৃষকের মৃত্যু

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিনও আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আকেটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, “ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।” তিনি মন্তব্য করেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “তাঁর বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।”

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, “সরকারিভাবে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”

জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েলের দাবি, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এর স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর

বন্য হাতির আক্রমণে ধান পাহারায় থাকা কৃষকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোররাতে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সেদিনও আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আকেটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, “ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।” তিনি মন্তব্য করেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আয়ে পরিবার চলত। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “তাঁর বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের আহমদই। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।”

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, “সরকারিভাবে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।”

জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েলের দাবি, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এর স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।”