ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে শুরু হয়েছে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উখিয়ায় ১ লাখ ইয়াবাসহ আটক ১, পলাতক ৪ বাংলাদেশ নাম শুনেই থামলেন মার্টিনেজ, বললেন ‘বাংলাদেশের ভক্তদের ভালোবাসি’ চূড়ান্ত হলো নকআউটের ৩২ দল, বিশ্বকাপ থেকে যাদের বিদায় চকরিয়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ২ ‘এই দেশটিকে আমি ভালোবাসি’, বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন মার্টিনেজ ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক সায়েমের মরদেহ উদ্ধার উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য?

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।