ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

বন্ধ হচ্ছে সৈকতে লাইফগার্ড সেবা: জরুরি পদক্ষেপ চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে লাইফগার্ড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) এর অর্থায়নে এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর তত্ত্বাবধানে ২০১২ সাল থেকে চলা ‘সি-সেফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন খাত ও লাখো ভ্রমণপিপাসুর জীবনের জন্য অশনি সংকেত।

২০১৪ সালে প্রকল্পটি চালুর পর থেকে কক্সবাজারের তিনটি জনপ্রিয় সৈকতে ২৭ জন প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কাজ করছেন। তাদের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের ৭ জুলাই পর্যন্ত ৭৯৫ জন পর্যটক মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একই সময়ে ৬৩ জন পর্যটক প্রাণ হারান।

শুধু গত বছরই ১৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন পর্যটক, আর উদ্ধার হয়েছেন ৫৩ জন। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সৈকতে লাইফগার্ড সেবা কতটা জরুরি।

ঢাকাস্থ কক্সবাজারবাসীদের সংগঠন ‘কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’ বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল-মালিকদের ওপর লাইফগার্ড সেবার ব্যয়ভার চাপানোর উদ্যোগ কার্যকর সমাধান নয়। বছরে প্রায় ৭০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের নিরাপত্তা কোনো বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে পারে না; এটি সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনটি মনে করে, লাইফগার্ড সেবা কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, বরং জরুরি জনসেবা। তাই একটি স্থায়ী সরকারি তহবিল গঠন, সেবাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

“পর্যটন শিল্পের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। এই ভিত্তি দুর্বল হলে স্বপ্নের পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়বে” বলে সতর্ক করেছে কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।