ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আবারও পাল্টালো পুলিশের পোশাক কক্সবাজার পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা, তৃণমূলে আলোচনায় কারানির্যাতিত ছাত্রদল নেতা রায়হান বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে কক্সবাজারে বিএসপিএ’র আলোচনা সভা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বাংলাদেশের পাশে আছে চীন : রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারে সংঘর্ষ : সতর্ক অবস্থানে বিজিবি,ড্রোন দিয়ে নজরদারি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক মাদক মামলার ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোরশেদ গ্রেফতার টেকনাফে বিজিবির অভিযান, বিপুল পরিমাণ আইস ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সৈকতের বালুচরে ছুটছে ‘মেসি’, স্বপ্নে আর্জেন্টিনার শিরোপা লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হতে পারে সাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কক্সবাজারসহ সারা দেশে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ পালন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ১৯ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কমছে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ঈদগাঁওতে চার সন্তানের মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে জেলেরা, এক মাস পেছানোর দাবি

কক্সবাজার উপকূলে আবারও শুরু হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সরকার বলছে, মাছের প্রজনন বাড়ানো ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি। তবে ভরা মৌসুমে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জেলেরা।

ট্রলার মালিক মো. কবির জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে উপকূলজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলেরা জাল, ট্রলার ও সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। মাছ ধরার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও রয়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া। তাঁর দাবি, “তেল সংকট ও জলদস্যুতার প্রকোপের কারণে ইতিমধ্যে জেলেদের পেশা ঝুঁকিতে পড়েছে।”

মহেশখালীর জেলে আইয়ুব আলী শঙ্কা জানি বললেন, “৫৮ দিন সাগরে যেতে পারব না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় আছি।”

ফিশিং ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন। তবে জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তারা।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলায় ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলেকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেককে প্রায় ৭৮ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানালেন, “সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় ইউনিয়ন চৌফলদণ্ডী। মৎস্য আহরণ, লবণ উৎপাদন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় খাবার ‘নাপ্পি’র জন্য পরিচিত এ অঞ্চল। এখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে মাছ ধরার ওপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই তারা নানা সংকটে রয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে, সাগরে জেলিফিশের আধিক্য বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি তেলের সংকট এবং জলদস্যুর ভয়। এসব কাটিয়ে জেলেরা তবুও সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছিলো, তখনই নেমে এলো নিষেধাজ্ঞা।

টেকনাফের জেলে মো. রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন সাগরে মাছ আছে, আবহাওয়াও ভালো। এই সময়েই নিষেধাজ্ঞা দিলে আমরা কীভাবে চলব?”

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের দাবি, বাংলাদেশের জলবায়ু ও সমুদ্রের অবস্থা ভারতের সঙ্গে এক নয়। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

তাঁর ভাষায়, “এটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। আমাদের বাস্তবতা বিবেচনা করা হয়নি। এ নিষেধাজ্ঞা এক মাস পেছানো দরকার।”

এদিকে নিষেধাজ্ঞা একমাস আগে দেওয়ার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছেন জেলেরা। কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডীসহ বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

এতে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেন, “ভরা মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ক্ষতি হবে শত কোটি টাকার। সরকার যেন সময়টা পুনর্বিবেচনা করে।”

ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আরও জানালেন, উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য সমুদ্রই একমাত্র আয়ের উৎস। ৫৮ দিনের এই বিরতি তাদের জীবনে বড় চাপ তৈরি করে। যদিও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তবু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন জেলেরা। খাদ্য সহায়তা বাড়ানোরও দাবি তাঁর।

কুতুবদিয়ার জেলে ছরওয়ার আক্ষেপ করে বলেন, “চাল পেলেও তো সব খরচ চলে না। ঋণ, ওষুধ, বাচ্চাদের পড়াশোনা সব কীভাবে চালাব?”

এদিকে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব। সেখানে তিনি বলেছেন, “জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ বন্ধে সবাইকে সচেতন করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, র‌্যাব ও মৎস্য সমবায় সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মাছের প্রজনন রক্ষার জন্য। তবে জেলেদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের দাবি, ঝড়-বৃষ্টির সময় মাছ বেশি প্রজনন করে। সেই সময়ই যেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল বলেছেন, “বৈরি আবহাওয়ায় সাগরে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে বিকল্প কর্মসংস্থান, নগদ সহায়তা, সহজ ঋণ সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। না হলে জেলেদের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়বে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা মন্তব্য করেন, “কক্সবাজার উপকূলে এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতা। একদিকে মাছের প্রাচুর্য, অন্যদিকে সাগরে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা।”

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ. এম. নজরুল ইসলাম বলছেন, “জেলেদের এখন একটাই প্রশ্ন, এই ৫৮ দিন তাদের কীভাবে কাটবে ? কারণ, সমুদ্র তাদের জীবন। কিন্তু সেই সমুদ্রেই এখন তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামু ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শারমিনা আফরোজ রেশমিনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে জেলেরা, এক মাস পেছানোর দাবি

আপডেট সময় : ১২:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার উপকূলে আবারও শুরু হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সরকার বলছে, মাছের প্রজনন বাড়ানো ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি। তবে ভরা মৌসুমে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জেলেরা।

ট্রলার মালিক মো. কবির জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে উপকূলজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলেরা জাল, ট্রলার ও সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। মাছ ধরার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও রয়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া। তাঁর দাবি, “তেল সংকট ও জলদস্যুতার প্রকোপের কারণে ইতিমধ্যে জেলেদের পেশা ঝুঁকিতে পড়েছে।”

মহেশখালীর জেলে আইয়ুব আলী শঙ্কা জানি বললেন, “৫৮ দিন সাগরে যেতে পারব না। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় আছি।”

ফিশিং ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন। তবে জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তারা।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলায় ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলেকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রত্যেককে প্রায় ৭৮ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানালেন, “সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় ইউনিয়ন চৌফলদণ্ডী। মৎস্য আহরণ, লবণ উৎপাদন এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় খাবার ‘নাপ্পি’র জন্য পরিচিত এ অঞ্চল। এখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে মাছ ধরার ওপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরেই তারা নানা সংকটে রয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে, সাগরে জেলিফিশের আধিক্য বেড়ে যাওয়া, জ্বালানি তেলের সংকট এবং জলদস্যুর ভয়। এসব কাটিয়ে জেলেরা তবুও সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছিলো, তখনই নেমে এলো নিষেধাজ্ঞা।

টেকনাফের জেলে মো. রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন সাগরে মাছ আছে, আবহাওয়াও ভালো। এই সময়েই নিষেধাজ্ঞা দিলে আমরা কীভাবে চলব?”

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের দাবি, বাংলাদেশের জলবায়ু ও সমুদ্রের অবস্থা ভারতের সঙ্গে এক নয়। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

তাঁর ভাষায়, “এটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। আমাদের বাস্তবতা বিবেচনা করা হয়নি। এ নিষেধাজ্ঞা এক মাস পেছানো দরকার।”

এদিকে নিষেধাজ্ঞা একমাস আগে দেওয়ার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছেন জেলেরা। কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডীসহ বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

এতে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা দাবি করেন, “ভরা মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ক্ষতি হবে শত কোটি টাকার। সরকার যেন সময়টা পুনর্বিবেচনা করে।”

ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আরও জানালেন, উপকূলের হাজারো পরিবারের জন্য সমুদ্রই একমাত্র আয়ের উৎস। ৫৮ দিনের এই বিরতি তাদের জীবনে বড় চাপ তৈরি করে। যদিও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তবু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন জেলেরা। খাদ্য সহায়তা বাড়ানোরও দাবি তাঁর।

কুতুবদিয়ার জেলে ছরওয়ার আক্ষেপ করে বলেন, “চাল পেলেও তো সব খরচ চলে না। ঋণ, ওষুধ, বাচ্চাদের পড়াশোনা সব কীভাবে চালাব?”

এদিকে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব। সেখানে তিনি বলেছেন, “জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ বন্ধে সবাইকে সচেতন করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য। এ সময় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, র‌্যাব ও মৎস্য সমবায় সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মাছের প্রজনন রক্ষার জন্য। তবে জেলেদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের দাবি, ঝড়-বৃষ্টির সময় মাছ বেশি প্রজনন করে। সেই সময়ই যেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল বলেছেন, “বৈরি আবহাওয়ায় সাগরে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে বিকল্প কর্মসংস্থান, নগদ সহায়তা, সহজ ঋণ সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। না হলে জেলেদের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়বে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা মন্তব্য করেন, “কক্সবাজার উপকূলে এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতা। একদিকে মাছের প্রাচুর্য, অন্যদিকে সাগরে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা।”

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ. এম. নজরুল ইসলাম বলছেন, “জেলেদের এখন একটাই প্রশ্ন, এই ৫৮ দিন তাদের কীভাবে কাটবে ? কারণ, সমুদ্র তাদের জীবন। কিন্তু সেই সমুদ্রেই এখন তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।”