ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

নতুন আশার সঞ্চার- রোহিঙ্গারাও চায় আশ্রয় জীবনের ‘শেষ ঈদ’

‘ইউএন টেইক আস টু আওয়ার হোম ব্যাক’, সমবেত লাখো মুখের মাঝে এমন আহবান সম্বলিত প্লেকার্ড দীর্ঘক্ষণ ছিলো রোহিঙ্গা এক যুবকের হাতে।

নিজ দেশে ফেরার আকুতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় কমতি রাখেনি বাংলাদেশে ৮ বছর ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

বলা হচ্ছে, শুক্রবার (১৪ মার্চ) উখিয়ার ২০ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ‘সলিডারিটি ইফতার’ কোনো বিশ্ব নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়কালে অন্যতম বৃহৎ আয়োজন।

যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে সারাবিশ্বকে আবারো মনে করিয়ে দিলেন নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কথা।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে কি ধরনের পরিস্থিতি মুখে এখানে এসেছে, তা আমাকে জানিয়েছে। তারা ঘরে ফিরতে চায়, মিয়ানমার তাদের মাতৃভূমি, স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে সেখানে ফিরে যাওয়া হচ্ছে এই সংকটের প্রাথমিক সমাধান”।

ইফতারের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বক্তব্য রাখলেও সাথে থাকা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন বক্তব্য দেন নি।

পরে ইফতার আয়োজন শেষে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন তিনি।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রাখা বক্তব্যে রোহিঙ্গাদেরকে তিনি বলেন, “আপনারা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে যে অনুরোধ জানিয়েছেন, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে তার কাছে উপস্থাপন করছি। আপনাদের যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যায়, আমরা নিরলসভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি”।

এবার না হলেও আগামী বছর রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন বলে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার কথায় আরাকানের মায়ায় উদগ্রীব রোহিঙ্গারা যেনো নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছেন বাড়ির ফেরার স্বপ্নে।

ইফতারে অংশ নিয়ে মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনেছেন উখিয়ার ৪ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ ইয়াসিন।

এক প্রতিক্রিয়ায় টিটিএনকে তিনি বলেন, ” আমি খুবই ভাগ্যবান এতো বড় আয়োজনে শরিক (অংশ নেওয়া) হতে পেরে। মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই সোনার আরকানে আমরা ফিরতে যাচ্ছি, এখন শুধু স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষা। ”

রোহিঙ্গা মাঝি (কমিউনিটি নেতা) আজিজের কন্ঠে ছিলো প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের বন্দনা।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষা বুঝতে পেরে খুশি হওয়া আজিজ বলেন, “বাংলাদেশের অবদান রোহিঙ্গাদের কাছে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবারের ঈদটা আমরা খুব আনন্দের সাথে বাংলাদেশী ভাই-বোনদের নিয়ে এখানে শেষ ঈদ হিসেবে উদযাপন করতে চাই।”

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ” আমরা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের প্রতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ। উনাদের উদারতা আমাদের কে অনুপ্রাণিত করেছে।”

খুব শীঘ্রই রাখাইনে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তৎপর হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন

নতুন আশার সঞ্চার- রোহিঙ্গারাও চায় আশ্রয় জীবনের ‘শেষ ঈদ’

আপডেট সময় : ০২:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

‘ইউএন টেইক আস টু আওয়ার হোম ব্যাক’, সমবেত লাখো মুখের মাঝে এমন আহবান সম্বলিত প্লেকার্ড দীর্ঘক্ষণ ছিলো রোহিঙ্গা এক যুবকের হাতে।

নিজ দেশে ফেরার আকুতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় কমতি রাখেনি বাংলাদেশে ৮ বছর ধরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

বলা হচ্ছে, শুক্রবার (১৪ মার্চ) উখিয়ার ২০ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ‘সলিডারিটি ইফতার’ কোনো বিশ্ব নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়কালে অন্যতম বৃহৎ আয়োজন।

যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস তাঁর বক্তব্যে সারাবিশ্বকে আবারো মনে করিয়ে দিলেন নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের কথা।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে কি ধরনের পরিস্থিতি মুখে এখানে এসেছে, তা আমাকে জানিয়েছে। তারা ঘরে ফিরতে চায়, মিয়ানমার তাদের মাতৃভূমি, স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে সেখানে ফিরে যাওয়া হচ্ছে এই সংকটের প্রাথমিক সমাধান”।

ইফতারের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বক্তব্য রাখলেও সাথে থাকা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন বক্তব্য দেন নি।

পরে ইফতার আয়োজন শেষে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন তিনি।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রাখা বক্তব্যে রোহিঙ্গাদেরকে তিনি বলেন, “আপনারা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে যে অনুরোধ জানিয়েছেন, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে তার কাছে উপস্থাপন করছি। আপনাদের যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যায়, আমরা নিরলসভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি”।

এবার না হলেও আগামী বছর রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন বলে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টার কথায় আরাকানের মায়ায় উদগ্রীব রোহিঙ্গারা যেনো নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছেন বাড়ির ফেরার স্বপ্নে।

ইফতারে অংশ নিয়ে মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনেছেন উখিয়ার ৪ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ ইয়াসিন।

এক প্রতিক্রিয়ায় টিটিএনকে তিনি বলেন, ” আমি খুবই ভাগ্যবান এতো বড় আয়োজনে শরিক (অংশ নেওয়া) হতে পেরে। মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই সোনার আরকানে আমরা ফিরতে যাচ্ছি, এখন শুধু স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষা। ”

রোহিঙ্গা মাঝি (কমিউনিটি নেতা) আজিজের কন্ঠে ছিলো প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের বন্দনা।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষা বুঝতে পেরে খুশি হওয়া আজিজ বলেন, “বাংলাদেশের অবদান রোহিঙ্গাদের কাছে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবারের ঈদটা আমরা খুব আনন্দের সাথে বাংলাদেশী ভাই-বোনদের নিয়ে এখানে শেষ ঈদ হিসেবে উদযাপন করতে চাই।”

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ” আমরা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের প্রতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ। উনাদের উদারতা আমাদের কে অনুপ্রাণিত করেছে।”

খুব শীঘ্রই রাখাইনে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তৎপর হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।