“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।
আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।
একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।
ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।
কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।
চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।
কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।
প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।
ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।
জাওয়াহের আহমেদ: 

















