ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে সুপার শপে আগুন রামুতে সুপার শপে আগুন ঢাকা-কক্সবাজার রুট: মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু আজ কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে সুপার শপে আগুন

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।