ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হ্যাটট্রিক-রেকর্ড- ইতিহাস; আবেগে ভেজা চোখ- স্বপ্নের মত শুরু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ ও সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড এখন মেসির মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু আর্জেন্টিনার মাতারবাড়িতে জ্বিন তাড়ানোর নামে শরীরে আগুন, ৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু অটোরিক্সাকে বাঁচাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনার শিকার যাত্রীবাহী বাস ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ইয়াবাসহ মরিচ্যায় ২ পাচারকারী আটক সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে জেইউসি’র আলোচনা সভা ​গুরুতর রোগে আক্রান্ত রুমালিয়াছড়ার সৈয়দ আলম: টাকার অভাবে আটকে আছে চিকিৎসা, বাঁচতে চান তিনি টেকনাফে ব্যবসায়ীকে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মাতারবাড়িতে ব্যবসায়ির মোবাইল চুরি, চুরি করা মোবাইল নিয়ে অনলাইন ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগ মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত

কোরবানি: ইবাদত, না সামাজিক প্রতিযোগিতা?

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এর মূল শিক্ষা ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবিকতা। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই কোরবানির এই বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত চেতনার পাশাপাশি সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন জাগে, আজকের কোরবানি কি সত্যিই ইবাদতের অংশ, নাকি তা ধীরে ধীরে সামাজিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে?

বর্তমানে কোরবানির পশুর মূল্য, আকার, ওজন কিংবা বিরল জাত নিয়ে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত সামর্থ্য বা ধর্মীয় অনুপ্রেরণার চেয়ে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ও ব্যয়বহুল পশুর ছবি প্রচার, দাম নিয়ে আলোচনা কিংবা “কার গরু বড়” এই মানসিকতা কোরবানির আধ্যাত্মিক দিককে অনেকাংশে আড়াল করে দিচ্ছে।

অথচ ইসলামে কোরবানির মূল বিষয় পশুর আকার বা মূল্য নয়; বরং মানুষের নিয়ত ও তাকওয়া। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। অর্থাৎ, কোরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় আত্মত্যাগের মানসিকতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তি ভালো ও মূল্যবান পশু কোরবানি করতে পারেন। ইসলাম কখনোই উৎকৃষ্ট বিষয়কে নিরুৎসাহিত করে না। তবে যখন কোরবানি আত্মপ্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য ও অপচয় কেবল বৈষম্যের অনুভূতিই বাড়ায়।

কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতায়। গরিব, অসহায় ও প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই এই ইবাদতের সামাজিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। তাই কোরবানিকে যদি কেবল পশুর দামের হিসাব বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে এর আত্মিক শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

আজ সময় এসেছে কোরবানির প্রকৃত দর্শনে ফিরে যাওয়ার। কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধির অনুশীলন, অহংকার ত্যাগের শিক্ষা এবং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। পশুর মূল্য নয়, মানুষের মন ও নিয়তই হোক কোরবানির আসল পরিচয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হ্যাটট্রিক-রেকর্ড- ইতিহাস; আবেগে ভেজা চোখ- স্বপ্নের মত শুরু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা

কোরবানি: ইবাদত, না সামাজিক প্রতিযোগিতা?

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এর মূল শিক্ষা ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবিকতা। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই কোরবানির এই বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির প্রকৃত চেতনার পাশাপাশি সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন জাগে, আজকের কোরবানি কি সত্যিই ইবাদতের অংশ, নাকি তা ধীরে ধীরে সামাজিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিচ্ছে?

বর্তমানে কোরবানির পশুর মূল্য, আকার, ওজন কিংবা বিরল জাত নিয়ে মানুষের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত সামর্থ্য বা ধর্মীয় অনুপ্রেরণার চেয়ে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ও ব্যয়বহুল পশুর ছবি প্রচার, দাম নিয়ে আলোচনা কিংবা “কার গরু বড়” এই মানসিকতা কোরবানির আধ্যাত্মিক দিককে অনেকাংশে আড়াল করে দিচ্ছে।

অথচ ইসলামে কোরবানির মূল বিষয় পশুর আকার বা মূল্য নয়; বরং মানুষের নিয়ত ও তাকওয়া। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া। অর্থাৎ, কোরবানির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় আত্মত্যাগের মানসিকতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তি ভালো ও মূল্যবান পশু কোরবানি করতে পারেন। ইসলাম কখনোই উৎকৃষ্ট বিষয়কে নিরুৎসাহিত করে না। তবে যখন কোরবানি আত্মপ্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর মৌলিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়। সেখানে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য ও অপচয় কেবল বৈষম্যের অনুভূতিই বাড়ায়।

কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতায়। গরিব, অসহায় ও প্রতিবেশীর মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই এই ইবাদতের সামাজিক তাৎপর্য প্রকাশ পায়। তাই কোরবানিকে যদি কেবল পশুর দামের হিসাব বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীকে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে এর আত্মিক শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

আজ সময় এসেছে কোরবানির প্রকৃত দর্শনে ফিরে যাওয়ার। কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধির অনুশীলন, অহংকার ত্যাগের শিক্ষা এবং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। পশুর মূল্য নয়, মানুষের মন ও নিয়তই হোক কোরবানির আসল পরিচয়।