ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।