ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন হাসপাতাল থেকে হাতকড়াসহ পালালো অস্ত্র মামলার আসামী রোহিঙ্গা ইব্রাহিম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ : তদন্ত প্রতিবেদন জমা কুলসুমার সঙ্গে বাসটার্মিনালের হোটেলে উঠেছিল যুবক, পরে মিললো মরদেহ হাদির নাম মুছে ঢাবির হলের ফটকে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর নাম লোহাগাড়ায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির যাচাই-বাছাই কমিটি : প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ‘রায়’ সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ৯ ৩৯ দিন ধরে খোঁজ মিলছে না ব্যবসায়ী জসিমের ​হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে নগদ অর্থ পুরস্কার কক্সবাজারে ১৪ কেজি চোরাই মালামালসহ ভাঙ্গারী দোকানদার গ্রেপ্তার টেকনাফে দুই বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চাষ করেছেন ৭ কানি, দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে সার পেলেন ৫ কেজি মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলটকে ছুরিকাঘাত, তবুও যেভাবে বেঁচে ফিরল ১৮০ যাত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস: জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

ট্যাগ :

কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।