ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়াবাসীকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা কোরবানি: ইবাদত, না সামাজিক প্রতিযোগিতা? সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানির গরু নিয়ে বাহারছড়াবাসীর ব্যতিক্রমী ক্যাটেল শো টেকনাফ টেলিভিশন জার্নালিস্ট সোসাইটির আহবায়ক কমিটি: আকাশ আহবায়ক,সচিব সোহেল সরকারের ১০০ দিন: সাংবাদিকদের বিচার কোন পর্যায়ে চট্টগ্রাম পেরিয়ে চকরিয়ার দিকে বজ্রমেঘ, কক্সবাজারে হতে পারে বৃষ্টি মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু পরিচ্ছন্ন উপায়ে কোরবানি সম্পন্ন করার আহ্বান প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর ‎লাখ টাকার মিশনে নেমেও ঈদে বাড়ি ফেরা হলোনা শাহীন ডাকাতের:ফের আটক ডিবির হাতে জাতীয় দলে ফিরলেন চকরিয়ার জিকু শিল্পী রাজীব বড়ুয়া পরলোকে, শেষকৃত্য সম্পন্ন আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ জেলা আইনজীবী সমিতির,পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জামিনে বেরিয়ে ফের আটক গর্জনিয়ার আলোচিত শাহীন ডাকাত টেকনাফে টাকা দিয়ে সাংবাদিক কার্ড সংগ্রহ, ইয়াবা পাচারে আটক ভুয়া সাংবাদিক

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গর্জনিয়াবাসীকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টিকা পাবে ২ উপজেলার ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশু

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান, টিকা বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন।

এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী এবং ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪,২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, টিকা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা জানান, হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

১৩ মাস বয়সী শিশু সামিউল হকের পিতা সানাউল হক বলেন, হামের সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে আমরা শঙ্কায় ছিলাম। এখন যেহেতু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাই হাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করছি। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।

৭ মাস বয়সী শিশু সাজ্জাদ ইসলাম সাগরের মা ফাহিমা রোকসানা শিউলি বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়তলী থেকে টিকা দিতে আসছি আমার বাচ্চাকে। হাম রোগ হবে মনে করে খুব ভয়ে ছিলাম। এখন টিকা দিয়ে মনে হচ্ছে হাম রোগ আর হবে না। টিকা দিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট সকলেই সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।