ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন হাসপাতাল থেকে হাতকড়াসহ পালালো অস্ত্র মামলার আসামী রোহিঙ্গা ইব্রাহিম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ : তদন্ত প্রতিবেদন জমা কুলসুমার সঙ্গে বাসটার্মিনালের হোটেলে উঠেছিল যুবক, পরে মিললো মরদেহ হাদির নাম মুছে ঢাবির হলের ফটকে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর নাম লোহাগাড়ায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির যাচাই-বাছাই কমিটি : প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ‘রায়’ সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ৯ ৩৯ দিন ধরে খোঁজ মিলছে না ব্যবসায়ী জসিমের ​হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে নগদ অর্থ পুরস্কার কক্সবাজারে ১৪ কেজি চোরাই মালামালসহ ভাঙ্গারী দোকানদার গ্রেপ্তার টেকনাফে দুই বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চাষ করেছেন ৭ কানি, দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে সার পেলেন ৫ কেজি মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলটকে ছুরিকাঘাত, তবুও যেভাবে বেঁচে ফিরল ১৮০ যাত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস: জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১১৯

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। যেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ টি শিশু।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানতে পারেনি টিটিএন।

কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড। এছাড়া কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুন করে ১১ টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এই মূহুর্তে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ টি। তার মধ্যে ৮২ টি শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও চলছে শিশুদের হামের চিকিৎসা। কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১৫ রমজান থেকে হাম রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। সেটি দিনদিন বাড়তে থাকে। সোমবার ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে হাম রোগ হয়ে থাকে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে হাম রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাম রোগ হলে শিশুদের নিয়ে বাড়ির পাশের ফার্মেসিতে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ট্যাগ :

কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১১৯

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। যেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ টি শিশু।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানতে পারেনি টিটিএন।

কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড। এছাড়া কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুন করে ১১ টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এই মূহুর্তে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ টি। তার মধ্যে ৮২ টি শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও চলছে শিশুদের হামের চিকিৎসা। কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১৫ রমজান থেকে হাম রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। সেটি দিনদিন বাড়তে থাকে। সোমবার ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে হাম রোগ হয়ে থাকে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে হাম রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাম রোগ হলে শিশুদের নিয়ে বাড়ির পাশের ফার্মেসিতে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।