ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

কক্সবাজারের বাঁকখালী: “জায়গা যদি নদীর হয়, আমাদের থেকে খাজনা নিলো কেনো?”

আপডেট সময় : ০৫:১৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

“এগুলো তো উচ্ছেদ না। উচ্ছেদের নামে আমাদেরকে গলা টিপে পিষে ওরা মেরে ফেলতে চাচ্ছে। জায়গাটা যদি নদী থাকে তাহলে সরকার আমাদের কাছ থেকে প্রতি বছর খাজনা নিয়েছে কেন?” এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সীমা রাণী দাশ। তিনি কক্সবাজার শহরের বাঁকখালীর পাড়ে নতুন গড়ে উঠা উকিল পাড়ার বাসিন্দা।

বাঁকখালী জমি উদ্ধারের নামে খতিয়ানভুক্ত জমি হতে কস্তুরাঘাট উকিলপাড়া উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাটির বাসিন্দারা।

রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে সীমা রাণি বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকার ওখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল কেন? যদি সরকার অনুমতি না দিত তাহলে তো আমরা আমাদের সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে জায়গাটা কিনতাম না।

“আমরা চেয়েছিলাম একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, কিন্তু সরকার সেই মাথার ওপর বুল ডোজার চালাতে চায়। সরকারের যদি লাগে তাহলে আমরা জায়গাটি দিয়ে দিতে রাজি আছি। তবে এই জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নিতে হবে” – বলেন সীমা।

নিজেদের ভুক্তভোগী দাবী করা মানববন্ধনে আসা উচ্ছেদ আতংকে থাকা এসব বাসিন্দারা বলেন, বর্তমানে দেশে তো আইন বলতে কিছুই নেই। সরকার আবার লুকোচুরি করাও শুরু করে দিয়েছে। যেখানে এফিলিয়েট ডিভিশনের প্রধান বিচারপতির নিষেধাজ্ঞা আছে, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন কারণে, কি স্বার্থে তারা আমাদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাংচুর করতে চাচ্ছে?

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, আমাদেরকে অবগত না করে চোরের মতো তারা দ্বিতীয়বার কেন ভাংচুর করতে চাচ্ছে। প্রথমবার উচ্ছেদের পর তো আমরা আবার যাই নাই। প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল আপনাদের জায়গায় আপনারা ফিরে যান। আমরা তো জোর করে সেখানে যাইনি। আমাদেরকে প্রশাসন পাঠিয়ে খতিয়ানও করে দিয়েছে, খাজনা নিয়েছে। তাহলে আমরা অবৈধ হলাম কোন দিক দিয়ে।

প্রতিবাদী সাদা কাফন পড়ে এসে এক নারী বলেন, “আমরা সাদা কাফন পড়ে বের হয়েছি। প্রয়োজনে মরে যাবো,তবুও আমাদের জায়গা ছাড়বো না। যদি আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গতে হয় তাহলে তা আমাদের রক্তের ওপর ভাঙ্গতে হবে।”

ফের প্রতিবাদ যেকারণে –
শনিবার সকালে বাঁকখালী নদী পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নৌ উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্টের একটি রায়ের অপেক্ষায় আছি। যার প্রেক্ষিতে বাঁকখালী নদী ও তীরবর্তী স্থাপনা বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রায়টি বিএস নাকি আরএস জরিপ অনুযায়ী কার্যকর হবে, সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গতবার এসে দেখেছি নদীতীরে কিছু সরকারি রাস্তা ও স্থাপনা রয়েছে। যদি আরএস জরিপ হয় তাহলে রাস্তা চলে যেতে পারে, আর বিএস হলে দেখা যাবে রাস্তা টিকে আছে।”

এরপর গত কয়েকবছরের ব্যবধানে গড়ে উঠা নদীর তীর এলাকার উকিল পাড়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন এবং রোববার সকালে মানববন্ধন করেন।