ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাহিত্যিকা পল্লীতে গোলাগুলির ঘটনায় আবুল মনসুর লুদুকে আটক করেছে পুলিশ সাহিত্যিকা পল্লীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত আরিফ-সোহেল বিমানবন্দরে আটক হ্নীলা স্টেশনের অগ্নিকাণ্ডে ওয়ালটন-ভিশন শোরুমসহ পুড়ে ছাই ৮ দোকান; আহত অন্তত ২০ টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা মায়ের কোলে ফিরল চার মাস বয়সী মাহি, ৩ অপহরণকারী গ্রেফতার চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ পেকুয়ায় মাছে বিষ প্রয়োগ করে বিক্রির অভিযোগে আটক ১ কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় র‍্যালি ও পথসভা দশ মিনিটেই পুড়ে ছাই ব্যবসায়ী কাইছারের শেষ সম্বল দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

উখিয়া-টেকনাফে কি ৯৬ ফিরিয়ে আনবেন এড.শাহজালাল চৌধুরী?

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরল এক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাক্ষী হয় লক্ষী আসন খ্যাত উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসনের সাধারণ জনগণ।

সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতিপক্ষের ভূমিকায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাঁর আপন ছোট ভাই জামায়াতের সাবেক জেলা আমির এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী।

বড়ভাই শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ৫৯৪ ভোট, আর ব্যালেটে শাহজালাল চৌধুরীর মার্কায় ১৭ হাজার ৬০৭ ভোট পড়েছিলো।

দুই ভাইয়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে তাদের পরাজিত করে বাজিমাত করেন প্রথমবার ভোটে আসা প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে ৪৪ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে তিনি সেবার জয়ী হয়েছিলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে আবারো সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ বইতে শুরু করেছে উখিয়া-টেকনাফের রাজনৈতিক আবহাওয়ায়।

তবে এবার ব্যালেটে নয়, প্রতিপক্ষকে জনসম্মুখে সমর্থন দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বড় ভাইয়ের বিপক্ষে নতুন করে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী।

গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে জনসম্মুখে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর হাত উঁচিয়ে ধরে তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রদর্শন করেছেন তিনি।

উখিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ‘ আমরা সৎ লোকের শাসন চাই, এজন্য নতুন বাংলাদেশে আপনাদের জন্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। আমরা আপনাদের সামনে পেশ করছি আমাদের নতুন নেতৃত্ব অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীকে।’

এসময় তিনি মঞ্চে উপস্থিত সমাবেশের প্রধান অতিথি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানকে ডেকে তুলেন এবং মাঝখানে আনোয়ারীকে রেখে ঘোষণা দেন, ‘ আমরা দুইজন দুইপাশে আছি, আপনারা উখিয়া-টেকনাফে এই তিনজনের উপর আস্থা-বিশ্বাস রাখতে পারেন।’

ইতিমধ্যে এই দৃশ্যপট উখিয়া ও টেকনাফ সহ জেলাজুড়ে আলোচিত হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যার ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও গত বছরের ২ নভেম্বর ভাই শাহজাহান চৌধুরীকে সমর্থন করে উখিয়া কলেজের একটি অনুষ্ঠানে শাহজালাল চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ আমি বেশি কোন এক্টিভিটিতে নেই, ইলেকশন করবেন শাহজাহান চৌধুরী এবং এটা পরিস্কার হয়ে যাওয়া উচিত। শাহজাহান চৌধুরীকে এমপি করতে হবে, এমপি হলে মন্ত্রীও হবে।’

এখনো নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি, আর ৯৬ এর মত আওয়ামী লীগ নেই ভোটে।

সাধারণ ভোটারেরা বলছেন, আসন্ন ভোটের ব্যালেটে নাম না লেখালেও শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষ হয়ে ভাইয়ের ‘পরাজয়’ লিখে পুনরায় ১৯৯৬ ফিরিয়ে আনবেন কিনা? যার উত্তর জানতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্যিকা পল্লীতে গোলাগুলির ঘটনায় আবুল মনসুর লুদুকে আটক করেছে পুলিশ

উখিয়া-টেকনাফে কি ৯৬ ফিরিয়ে আনবেন এড.শাহজালাল চৌধুরী?

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরল এক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাক্ষী হয় লক্ষী আসন খ্যাত উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসনের সাধারণ জনগণ।

সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতিপক্ষের ভূমিকায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাঁর আপন ছোট ভাই জামায়াতের সাবেক জেলা আমির এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী।

বড়ভাই শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ৫৯৪ ভোট, আর ব্যালেটে শাহজালাল চৌধুরীর মার্কায় ১৭ হাজার ৬০৭ ভোট পড়েছিলো।

দুই ভাইয়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে তাদের পরাজিত করে বাজিমাত করেন প্রথমবার ভোটে আসা প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে ৪৪ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে তিনি সেবার জয়ী হয়েছিলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে আবারো সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ বইতে শুরু করেছে উখিয়া-টেকনাফের রাজনৈতিক আবহাওয়ায়।

তবে এবার ব্যালেটে নয়, প্রতিপক্ষকে জনসম্মুখে সমর্থন দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বড় ভাইয়ের বিপক্ষে নতুন করে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন সাবেক উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী।

গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে জনসম্মুখে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর হাত উঁচিয়ে ধরে তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রদর্শন করেছেন তিনি।

উখিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ‘ আমরা সৎ লোকের শাসন চাই, এজন্য নতুন বাংলাদেশে আপনাদের জন্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। আমরা আপনাদের সামনে পেশ করছি আমাদের নতুন নেতৃত্ব অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীকে।’

এসময় তিনি মঞ্চে উপস্থিত সমাবেশের প্রধান অতিথি জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানকে ডেকে তুলেন এবং মাঝখানে আনোয়ারীকে রেখে ঘোষণা দেন, ‘ আমরা দুইজন দুইপাশে আছি, আপনারা উখিয়া-টেকনাফে এই তিনজনের উপর আস্থা-বিশ্বাস রাখতে পারেন।’

ইতিমধ্যে এই দৃশ্যপট উখিয়া ও টেকনাফ সহ জেলাজুড়ে আলোচিত হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যার ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও গত বছরের ২ নভেম্বর ভাই শাহজাহান চৌধুরীকে সমর্থন করে উখিয়া কলেজের একটি অনুষ্ঠানে শাহজালাল চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ আমি বেশি কোন এক্টিভিটিতে নেই, ইলেকশন করবেন শাহজাহান চৌধুরী এবং এটা পরিস্কার হয়ে যাওয়া উচিত। শাহজাহান চৌধুরীকে এমপি করতে হবে, এমপি হলে মন্ত্রীও হবে।’

এখনো নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি, আর ৯৬ এর মত আওয়ামী লীগ নেই ভোটে।

সাধারণ ভোটারেরা বলছেন, আসন্ন ভোটের ব্যালেটে নাম না লেখালেও শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষ হয়ে ভাইয়ের ‘পরাজয়’ লিখে পুনরায় ১৯৯৬ ফিরিয়ে আনবেন কিনা? যার উত্তর জানতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।