ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চৌফলদন্ডী ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি ২০২৭ সালেও দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা, তারিখ ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো মির্জা আব্বাস ২০২৫ সালের তুলনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’ বন্ধুর সাথে ঘুরতে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণী সানুচিং তঞ্চঙ্গ্যার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসেনি এক ঘন্টায়ও! মারাত্মক এক অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেল বার্মিজ মার্কেট! দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মাছ ধরার ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের কমিটি : সভাপতি মুন্না, সম্পাদক রেজাউল সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরিফ-সোহেল কে কারাগারে প্রেরণ উখিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া

ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে বড় তিন চ্যালেঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে।যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও শিল্প-কলকারখানাসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শ্রমিকরা রয়েছেন বিপদে। যেটি রেমিটেন্স প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ক্ষোভ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে ঈদের পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে। খবর বিবিসি বাংলার।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা – মোটাদাগে এই তিনটিই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।সেই সঙ্গে গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ নানা ইস্যু রাজনৈতিকভাবেও নতুন সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আর ঈদের পর দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটি মানছেন সরকারের মন্ত্রীরাও।

তারা বলছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরই দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার, ঈদের পর যার গতি আরও বাড়বে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানা মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুণর্গঠনই এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জন্যও সব চেয়ে গুরুত্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি।

ঈদের আগেই জ্বালানি নিয়ে দুর্ভোগের আঁচ কিছুটা হলেও পেয়েছে সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার সাথে যে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশেষ করে বাংলাদেশে এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এবং ফসল আবাদে জ্বালানির চাহিদা বড় চিন্তার কারণ হতে পারে বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, ঈদের পর অফিস-আদালত এবং শিল্প-কারখানাগুলো পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

এছাড়া কৃষি উৎপাদনে সার ও সেচের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়বে

এক্ষেত্রে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলছেন, “জ্বালানি তো এখনই বেশ চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এমন একটি সময় যখন আমাদের দেশের রাজস্ব আয়েও বড় ঘাটতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি।”

এছাড়া জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অধিক মূল্য পরিশোধ করতে রিজার্ভ থেকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা লাগতে পারে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মত প্রস্তুতি সরকার নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তবে, তিনি বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতি তো আমাদের হাতে নেই, তাই ধৈর্য্য ধরে, সাশ্রয়ী ব্যবহার করার মাধ্যমে আমাদেরকে টিকে থাকতে হবে।”

ঈদের পর জ্বালানির দাম বাড়বে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। তবে যুদ্ধ চলতে থাকলে তো কিছু করার থাকবে না।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিরোধী দলের দাবি ও আন্দোলন, এমন নানা বিষয় ঈদের পর সরকারের সামনে খুব কম সময়ের মধ্যেই হাজির হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার ঠিক কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “স্থানীয় সরকার বা প্রশাসনে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি দলের লোক দিয়েই। এ ধরণের দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিরোধী দলের দাবিদাওয়া ও আন্দোলনের মতো কর্মসূচিও সরকারকে চাপে ফেলতে পারে, বলছেন তিনি।

তবে, এই মূহুর্তে রাজনীতি নয় দেশের অর্থনীতি ঠিক করাই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলছেন, “রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তো সবসময়ই থাকবে, আমরা এগুলো আলোচনা করে সমাধান করবো। তবে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে অচলবস্থা তৈরি হয়েছে এমন পেক্ষাপটে দেশকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

এছাড়া ঈদের পরেই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সামনের অর্থ বছরের বাজেট।

কেননা, নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বাজেটে কী বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে – এবার সেদিকে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার যেসব পদক্ষেপ স্বল্প পরিসরে সরকার ইতোমধ্যেই নিয়েছে সেগুলোও বাজেটে সম্প্রসারণ করতে হবে।

এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সচেষ্ট হতে হবে সরকারকে।

সূত্র:যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চৌফলদন্ডী ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি

ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে বড় তিন চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে।যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও শিল্প-কলকারখানাসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শ্রমিকরা রয়েছেন বিপদে। যেটি রেমিটেন্স প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ক্ষোভ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে ঈদের পর নানামুখী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে। খবর বিবিসি বাংলার।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা – মোটাদাগে এই তিনটিই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।সেই সঙ্গে গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ নানা ইস্যু রাজনৈতিকভাবেও নতুন সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আর ঈদের পর দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটি মানছেন সরকারের মন্ত্রীরাও।

তারা বলছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরই দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার, ঈদের পর যার গতি আরও বাড়বে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানা মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুণর্গঠনই এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিও বন্ধ।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জন্যও সব চেয়ে গুরুত্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি।

ঈদের আগেই জ্বালানি নিয়ে দুর্ভোগের আঁচ কিছুটা হলেও পেয়েছে সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার সাথে যে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশেষ করে বাংলাদেশে এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা এবং ফসল আবাদে জ্বালানির চাহিদা বড় চিন্তার কারণ হতে পারে বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, ঈদের পর অফিস-আদালত এবং শিল্প-কারখানাগুলো পূর্ণ শক্তিতে চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

এছাড়া কৃষি উৎপাদনে সার ও সেচের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়বে

এক্ষেত্রে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলছেন, “জ্বালানি তো এখনই বেশ চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এমন একটি সময় যখন আমাদের দেশের রাজস্ব আয়েও বড় ঘাটতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি।”

এছাড়া জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অধিক মূল্য পরিশোধ করতে রিজার্ভ থেকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করা লাগতে পারে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মত প্রস্তুতি সরকার নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তবে, তিনি বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতি তো আমাদের হাতে নেই, তাই ধৈর্য্য ধরে, সাশ্রয়ী ব্যবহার করার মাধ্যমে আমাদেরকে টিকে থাকতে হবে।”

ঈদের পর জ্বালানির দাম বাড়বে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। তবে যুদ্ধ চলতে থাকলে তো কিছু করার থাকবে না।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিরোধী দলের দাবি ও আন্দোলন, এমন নানা বিষয় ঈদের পর সরকারের সামনে খুব কম সময়ের মধ্যেই হাজির হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার ঠিক কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, “স্থানীয় সরকার বা প্রশাসনে যেসব নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি দলের লোক দিয়েই। এ ধরণের দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিরোধী দলের দাবিদাওয়া ও আন্দোলনের মতো কর্মসূচিও সরকারকে চাপে ফেলতে পারে, বলছেন তিনি।

তবে, এই মূহুর্তে রাজনীতি নয় দেশের অর্থনীতি ঠিক করাই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলছেন, “রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তো সবসময়ই থাকবে, আমরা এগুলো আলোচনা করে সমাধান করবো। তবে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে অচলবস্থা তৈরি হয়েছে এমন পেক্ষাপটে দেশকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

এছাড়া ঈদের পরেই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সামনের অর্থ বছরের বাজেট।

কেননা, নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বাজেটে কী বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে – এবার সেদিকে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার যেসব পদক্ষেপ স্বল্প পরিসরে সরকার ইতোমধ্যেই নিয়েছে সেগুলোও বাজেটে সম্প্রসারণ করতে হবে।

এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই সচেষ্ট হতে হবে সরকারকে।

সূত্র:যুগান্তর