ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হ্নীলার নুরুল হুদা মেম্বারের সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড : ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার অর্থদণ্ড শহরে বন্দুকসহ গ্রেফতার ২ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বামী ঢাকায় গ্রেফতার নতুন বাহারছড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জা আর নেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না, ঠিক করবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ব্লু ইকোনমির রাজধানী হবে কক্সবাজার – এমপি লুৎফুর রহমান কাজল পেকুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৪টি গরু ও বসতঘর পুড়ে ছাই অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎবিহীন উখিয়া-টেকনাফ, স্বাভাবিক হতে লাগবে ৭ ঘন্টা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ! প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী

অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে হামলার শিকার বনকর্মীরা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযান চলাকালে একদল ভূমিদস্যু ও দখলদার সংঘবদ্ধভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান পরিচালনার সময় বন বিভাগের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

ডিএফও আরও বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বনকর্মীদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকবল সংকটের সুযোগ নিয়েই দখলদার চক্র বারবার হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রায়ই স্থানীয় দখলদারদের বাধা, হুমকি ও হামলা শিকার হতে হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হ্নীলার নুরুল হুদা মেম্বারের সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড : ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার অর্থদণ্ড

অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে হামলার শিকার বনকর্মীরা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযান চলাকালে একদল ভূমিদস্যু ও দখলদার সংঘবদ্ধভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান পরিচালনার সময় বন বিভাগের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

ডিএফও আরও বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বনকর্মীদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকবল সংকটের সুযোগ নিয়েই দখলদার চক্র বারবার হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রায়ই স্থানীয় দখলদারদের বাধা, হুমকি ও হামলা শিকার হতে হয়।