ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট হাসপাতাল, হাট-বাজার, সমুদ্র সৈকত : ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পেকুয়ায় ‘ইউসুফ আলী’ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবস : ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ৮ ফ্যাসিবাদীদেরকে তথ্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ বছর পর পর্দা উঠলো পর্যটন মেলার, তারকামানের হোটেলে বিশেষ ছাড় কুতুবদিয়া থানা কাবাডি দলের জার্সি উন্মোচন কক্সবাজারে চোরাই মালামালসহ গ্রেপ্তার ২ কবি অমিত চৌধুরী কে পাওয়া গেছে : মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার কক্সবাজারে প্রাক্তন এডিসি আশরাফুল আফসার আর নেই টেকনাফে এসআরবির অভিযান: মালয়েশিয়া পাচারের হাত থেকে ১৭ ভিকটিম উদ্ধার

অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে হামলার শিকার বনকর্মীরা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযান চলাকালে একদল ভূমিদস্যু ও দখলদার সংঘবদ্ধভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান পরিচালনার সময় বন বিভাগের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

ডিএফও আরও বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বনকর্মীদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকবল সংকটের সুযোগ নিয়েই দখলদার চক্র বারবার হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রায়ই স্থানীয় দখলদারদের বাধা, হুমকি ও হামলা শিকার হতে হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ

অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে হামলার শিকার বনকর্মীরা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযান চলাকালে একদল ভূমিদস্যু ও দখলদার সংঘবদ্ধভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান পরিচালনার সময় বন বিভাগের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

ডিএফও আরও বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বনকর্মীদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকবল সংকটের সুযোগ নিয়েই দখলদার চক্র বারবার হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রায়ই স্থানীয় দখলদারদের বাধা, হুমকি ও হামলা শিকার হতে হয়।