ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চৌফলদন্ডীকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নাগরিক ঐক্য পরিষদ গঠন সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান :ছিনতাইয়ের অভিযোগে সম্রাট নামের যুবক আটক শহরে ডিবির অভিযান : ৪ ছিনতাইকারী আটক লামায় অবৈধ বালু উত্তোলন, শ্যালো মেশিন ও পাইপ জব্দ দুঃশাসনের ক্ষত মুছে বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ছে বিএনপি: লোহাগাড়ায় লায়ন হেলাল টেকনাফে র‌্যাবের অভিযান : ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার মগনামা লঞ্চ ঘাটে পানিতে পড়ে যুবক নিখোঁজ ৮ সেপ্টেম্বর ফাইনাল, মুখোমুখি হবে চকরিয়া ও রামু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সদস্য গ্রেফতার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস সারা দেশে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম বিয়ের বাড়ি সাজাতে গিয়ে নিভে গেল সাইফুলের জীবন প্রদীপ

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চৌফলদন্ডীকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নাগরিক ঐক্য পরিষদ গঠন

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।