ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“চিঠির উত্তর দিসরে বন্ধু যদি মনে লয়, কাগজ গেলো দিস্তা দিস্তা কলম গোটা ছয়” ৯০ দশকের এই গানটির আবেদন ছিলো প্রিয় মানুষের প্রতি, যেনো চিঠি দেয়া হয়। এখন সময় বদলেছে সেই চিঠি আর আসেনা। চিঠির বাক্সে আজ শূন্যতা, হারিয়ে গেছে অপেক্ষার দিন।

আজ চিঠি দিবস। কিন্তু এ দিনে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে চিঠির বাক্স।

একসময় যার ভেতর প্রতিদিন জমা পড়তো অসংখ্য চিঠি। প্রিয়জনের খবর, ভালোবাসা কিংবা অভিমানে ভরা অনুলিপি সেই বাক্স আজ দাঁড়িয়ে কেবল সময়ের গল্পের উপহাস গুনছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নব্বই দশকের সেই ভিড় নেই, নেই চিঠির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অনুভূতিও।

ডাকপিয়নের নাম শুনলেই মনে হতো সাইকেলের বেল বাজলো, হাতে এলো প্রিয় মানুষের চিঠি। মেঠোপথ পেরিয়ে, গাছের ছায়ায় ঠিকানা খুঁজে মানুষের ঘরে ঘরে চিঠি পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়ন।

কিন্তু এখন ফোনকল, মেসেজ কিংবা ই-মেইলেই মিটছে যোগাযোগের প্রয়োজন। আর মনের গোপন কথাগুলোও অনেক সময় জায়গা করে নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য পোস্টে। তাই কমেছে ডাকপিয়নের ব্যস্ততা। চিঠি পৌঁছে দিতে ঘরে ঘরে গেলেও, আগের সেই ব্যস্ততা আর নেই বলে জানান কক্সবাজারের ডাকপিয়ন লিয়াকত আলী।

চিঠি দিবসে কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে গিয়ে দেখা যায় আগের সেই জৌলুশ নেই সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে। চিঠি পোস্ট করতে দেখা গেল মাত্র একজনকে। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফোরকান।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে এখনো সরকারি এই সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে।

কক্সবাজার ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার অবশ্য জানান, এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা। সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এখনো আসে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। তবে দেশ-বিদেশে থাকা মানুষের হাতে লেখা চিঠির জন্য এখন আর অপেক্ষায় থাকে না প্রিয়জন।

প্রযুক্তি যোগাযোগকে করেছে সহজ, কমিয়েছে দূরত্ব। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে চিঠির জন্য অপেক্ষার নানা গল্প। সাথে প্রেরক, প্রাপক আর ডাকপিয়ন নামের চরিত্র গুলো।

ফিডব্যাক ব্যান্ডের সেই বিখ্যাত গান “আজ তোমার চিঠি, যদি না পেলাম হায়,তবে ভেবে নেবো ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে”। হ্যাঁ সত্যিই যেনো আজ ডাকপিয়নের অসুখ হয়েছে। তাই চিঠি আর আসে না।