কক্সবাজারের টেকনাফে এক নারীকে ইজিবাইক থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, উত্তর শিলখালীর ইছহাকের মেয়ে মুর্শিদাসহ পাঁচজন এ ঘটনায় জড়িত।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁর বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত। বাবার চিকিৎসা ও অপারেশনের খরচের জন্য টাকা সংগ্রহ করতে বুধবার তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে শামলাপুর বাজারে যান। সেখানকার ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নিচে একটি বিকাশ এজেন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে উত্তর শিলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে মুর্শিদাসহ কয়েকজন তাঁকে ইজিবাইক থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বিদ্যালয়ের পাশে সাদেকের দোকানের নিকট একটি খালি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সেখানে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে বিবস্ত্র করে ফের মারধর করা হয়। পরে লোকজনের ভিড় বেড়ে গেলে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে মুর্শিদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে পুনরায় মারধর, মাথার চুল কেটে দেয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।
এদিকে, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি মোবাইল টিম মুর্শিদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র ও টেকনাফ থানার পৃথক মোবাইল টিম অভিযান চালিয়ে উত্তর শিলখালীর বাসিন্দা ইছহাকের মেয়ে মুর্শিদা ও রেহেনা আক্তারকে আটক করে।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আবু সায়েদ জানান, আটক দুজনকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















