জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবিকা ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলোর স্বাবলম্বিতা বাড়াতে কক্সবাজারে LG Ambassador Challenge 2026-এর আওতায় ১৫টি পরিবারের মাঝে নৌকা বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের রুপালি বাজার এলাকায় LG Ambassador Challenge 2026 বিজয়ী মিনহাজ উদ্দিনের ‘উপকূলীয় জীবনরেখা’ (Coastal Lifeline) প্রকল্পের আওতায় এসব নৌকা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. রেহানউদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ট্যাক্স, LG Electronics Singapore (Bangladesh Branch)। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সমাজকর্মী, কমিউনিটি লিডার ও স্বেচ্ছাসেবকরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে RTI Digital।
প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি জেলে পরিবারকে মাছ আহরণের জন্য কাঠের নৌকা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা অন্যের অধীনে কাজ করার পরিবর্তে নিজেদের নৌকা ব্যবহার করে স্বাধীনভাবে মাছ আহরণ করে আয় করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় নৌকাগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি যাতায়াত ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
LG Ambassador Challenge 2026 বিজয়ী ও প্রকল্প উদ্যোক্তা মিনহাজ উদ্দিন বলেন,
“চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি পরিবারের মাঝে নৌকা বিতরণের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। উপকূলীয় মানুষের জন্য এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ায় LG Electronics Singapore (Bangladesh Branch)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয়রা জানান, নদী ও সমুদ্রে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাবে উপকূলীয় জেলেদের জীবিকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নৌকা পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘উপকূলীয় জীবনরেখা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো—জীবিকা, স্বাবলম্বিতা ও জলবায়ু সহনশীলতার মাধ্যমে উপকূলীয় পরিবারগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করা।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য: 























