ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ৯ ৩৯ দিন ধরে খোঁজ মিলছে না ব্যবসায়ী জসিমের ​হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে নগদ অর্থ পুরস্কার কক্সবাজারে ১৪ কেজি চোরাই মালামালসহ ভাঙ্গারী দোকানদার গ্রেপ্তার টেকনাফে দুই বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চাষ করেছেন ৭ কানি, দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে সার পেলেন ৫ কেজি মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানের পাইলটকে ছুরিকাঘাত, তবুও যেভাবে বেঁচে ফিরল ১৮০ যাত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস: জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছাড়াল ১০৩ ডলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোন অভিযানের জন্য প্রস্তুত পুলিশ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

সমুদ্রের নগরী ও দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার তীব্র গরমের দাবদাহে পুড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এরই মধ্যে শুক্রবার (৫ জুন) জেলায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি ছিল, যা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে শুক্রবার তাপমাত্রা বেড়ে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আগামী কয়েকদিন আকাশ আংশিক থেকে অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।”

সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই তীব্র রোদের কারণে শহরের সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল কমে যায়। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করছেন, তাদেরকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

শহরের বাহারছড়া এলাকার রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “সকাল ৯টার পর থেকেই রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। রোদের তাপ এত বেশি যে মাথা ঝিমঝিম করে। কয়েকবার ঠাণ্ডা পানি খেয়েও স্বস্তি মিলছে না। যাত্রীও কমে গেছে।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কলাতলী এলাকার নির্মাণশ্রমিক আবদুর রহমান বলেন, “খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে শরীর থেকে ঘাম ঝরছে অবিরাম। একটু পরপর বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন।”

তীব্র গরমের কারণে পর্যটকদের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করলেও দিনের বেলায় খোলা রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারছেন না। অনেকে ছাতা, টুপি ও পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অবসাদ, হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েকদিনে গরমজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে পানিশূন্যতা, জ্বর, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী গরমে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও পথচারীরা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঠাণ্ডা পানীয়, ডাব ও শরবতের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টি নামলে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি ফিরবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে। বর্তমানে জেলার মানুষের একটাই অপেক্ষা এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ৯

কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৪:২৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সমুদ্রের নগরী ও দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার তীব্র গরমের দাবদাহে পুড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এরই মধ্যে শুক্রবার (৫ জুন) জেলায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি ছিল, যা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে শুক্রবার তাপমাত্রা বেড়ে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। আগামী কয়েকদিন আকাশ আংশিক থেকে অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।”

সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই তীব্র রোদের কারণে শহরের সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল কমে যায়। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করছেন, তাদেরকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

শহরের বাহারছড়া এলাকার রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, “সকাল ৯টার পর থেকেই রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। রোদের তাপ এত বেশি যে মাথা ঝিমঝিম করে। কয়েকবার ঠাণ্ডা পানি খেয়েও স্বস্তি মিলছে না। যাত্রীও কমে গেছে।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কলাতলী এলাকার নির্মাণশ্রমিক আবদুর রহমান বলেন, “খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে শরীর থেকে ঘাম ঝরছে অবিরাম। একটু পরপর বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন।”

তীব্র গরমের কারণে পর্যটকদের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করলেও দিনের বেলায় খোলা রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারছেন না। অনেকে ছাতা, টুপি ও পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, অবসাদ, হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েকদিনে গরমজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে পানিশূন্যতা, জ্বর, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী গরমে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও পথচারীরা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঠাণ্ডা পানীয়, ডাব ও শরবতের দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টি নামলে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি ফিরবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে। বর্তমানে জেলার মানুষের একটাই অপেক্ষা এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি।