ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ হাজার টাকায় আড়াই মাসের শিশু কেনার চেষ্টা, পুলিশ হেফাজতে পর্যটক দম্পতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ছাত্রদলের রাজনীতি ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের অভিযাত্রা পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের আত্মপ্রকাশ সভাপতি মাঈনুদ্দিন, সম্পাদক হুমায়ুন সেন্টমার্টিনে সালিশ বৈঠকে সাবেক মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা : আহত বর্তমান মেম্বার শিল্পী ইয়াসির আরাফাত-এর দ্বিতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু ৩০ মে টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের নতুন এসপি মোঃ মারুফাত হোসাইন: এসপি নিহাদ হেডকোয়ার্টারে টেকনাফ সাবরাংয়ে সংঘর্ষের বলি কিশোর ইব্রাহিম, আটক ১ ঈদের আনন্দের মধ্যেই সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ ভারতে কারাভোগ শেষে ঈদের দিন দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক মিয়ানমারে পণ্য পাচারকে কেন্দ্র করে হোয়াইক্যংয়ের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ কোরবানির বরাদ্দ: কাগজে মাংস, নাকি মানুষের ঘরে? সোনারপাড়ার সাদাবালি রিসোর্টে আগুন: শত্রুতা বলছে মালিক পক্ষ উখিয়ার ওসি কি সত্যিই বদলি? ১২ দিনেও নেই সেই ‘মা’ হত্যা মামলার অগ্রগতি রাত ৮টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্যমুক্ত হবে কক্সবাজার শহর: পৌরসভার ৩০০ কর্মী মাঠে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ছাত্রদলের রাজনীতি ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের অভিযাত্রা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এক অনন্য নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সাহসী ঘোষক, রাষ্ট্রনায়ক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক হিসেবে তিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয়।

তাঁর শাহাদাত বার্ষিকী শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; বরং এটি এমন এক রাষ্ট্রদর্শনের পুনরালোচনা করার সময়, যা বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল, উৎপাদনমুখী ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তখন জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।

সেই চিন্তা থেকেই তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু করেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমকে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেন।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূখণ্ডভিত্তিক পরিচয়কে শক্তিশালী করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ, উৎপাদনশীলতা এবং আত্মনির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের তরুণ সমাজই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রধান শক্তি। একটি আদর্শ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ছাত্রসমাজের সক্রিয় ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই তিনি চেয়েছিলেন ছাত্ররাজনীতি হোক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম; সংঘাত ও সহিংসতার ক্ষেত্র নয়।

এই দূরদর্শী ভাবনা থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী ছাত্রসংগঠন, যার মূল লক্ষ্য ছিল মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল ছাত্রনেতৃত্ব গড়ে তোলা। ছাত্রদলের জন্ম কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল তরুণ সমাজকে রাষ্ট্রগঠনের ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।

জিয়াউর রহমান ছাত্রসমাজকে কেবল রাজনীতির কর্মী হিসেবে দেখেননি। তিনি চেয়েছিলেন তারা হোক দেশের উন্নয়নযাত্রার অগ্রসৈনিক। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে এসেছে উৎপাদনমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তি জ্ঞান, কৃষি উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের বিষয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষিত তরুণরা যদি সঠিক নেতৃত্ব ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়, তবে তারা জাতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

ছাত্রদলের প্রাথমিক আদর্শেও সেই চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়। সংগঠনটি ছাত্রদের মাঝে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল। জিয়াউর রহমান মনে করতেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে যখন সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বাড়তে দেখা যায়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান বাস্তববাদী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেন, কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।

তাঁর “খাল কাটো, দেশ গড়ো” কর্মসূচি ছিল গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের এক অনন্য উদাহরণ।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোতে শুরু করেছিল।

তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। এই মৃত্যু ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গভীর আঘাত। কিন্তু তাঁর আদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতীয়তাবাদী দর্শন আজও বহু মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক, দায়িত্বশীল ও মানবিক নেতৃত্বে গড়ে তোলাই হতে পারে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। ছাত্ররাজনীতি যদি জ্ঞান, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চর্চার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, তবে সেটিই হবে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

আজকের বাংলাদেশে উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। কারণ তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে স্বাধীনতা ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক হবে, আর তরুণ সমাজ হবে সেই অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি।

শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে—যিনি তাঁর কর্ম, চিন্তা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করে গেছেন।

লেখক – শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর), কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০ হাজার টাকায় আড়াই মাসের শিশু কেনার চেষ্টা, পুলিশ হেফাজতে পর্যটক দম্পতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ছাত্রদলের রাজনীতি ও স্বপ্নময় বাংলাদেশের অভিযাত্রা

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এক অনন্য নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সাহসী ঘোষক, রাষ্ট্রনায়ক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক হিসেবে তিনি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয়।

তাঁর শাহাদাত বার্ষিকী শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে স্মরণ করার দিন নয়; বরং এটি এমন এক রাষ্ট্রদর্শনের পুনরালোচনা করার সময়, যা বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল, উৎপাদনমুখী ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তখন জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; এটি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।

সেই চিন্তা থেকেই তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু করেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমকে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেন।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভূখণ্ডভিত্তিক পরিচয়কে শক্তিশালী করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ, উৎপাদনশীলতা এবং আত্মনির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের তরুণ সমাজই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রধান শক্তি। একটি আদর্শ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ছাত্রসমাজের সক্রিয় ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই তিনি চেয়েছিলেন ছাত্ররাজনীতি হোক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম; সংঘাত ও সহিংসতার ক্ষেত্র নয়।

এই দূরদর্শী ভাবনা থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী ছাত্রসংগঠন, যার মূল লক্ষ্য ছিল মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল ছাত্রনেতৃত্ব গড়ে তোলা। ছাত্রদলের জন্ম কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল তরুণ সমাজকে রাষ্ট্রগঠনের ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।

জিয়াউর রহমান ছাত্রসমাজকে কেবল রাজনীতির কর্মী হিসেবে দেখেননি। তিনি চেয়েছিলেন তারা হোক দেশের উন্নয়নযাত্রার অগ্রসৈনিক। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে এসেছে উৎপাদনমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তি জ্ঞান, কৃষি উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের বিষয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষিত তরুণরা যদি সঠিক নেতৃত্ব ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়, তবে তারা জাতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

ছাত্রদলের প্রাথমিক আদর্শেও সেই চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়। সংগঠনটি ছাত্রদের মাঝে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল। জিয়াউর রহমান মনে করতেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে যখন সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বাড়তে দেখা যায়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমান বাস্তববাদী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেন, কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।

তাঁর “খাল কাটো, দেশ গড়ো” কর্মসূচি ছিল গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের এক অনন্য উদাহরণ।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগোতে শুরু করেছিল।

তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। এই মৃত্যু ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গভীর আঘাত। কিন্তু তাঁর আদর্শ, রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতীয়তাবাদী দর্শন আজও বহু মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক, দায়িত্বশীল ও মানবিক নেতৃত্বে গড়ে তোলাই হতে পারে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। ছাত্ররাজনীতি যদি জ্ঞান, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চর্চার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, তবে সেটিই হবে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

আজকের বাংলাদেশে উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। কারণ তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে স্বাধীনতা ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক হবে, আর তরুণ সমাজ হবে সেই অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি।

শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে—যিনি তাঁর কর্ম, চিন্তা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করে গেছেন।

লেখক – শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর), কক্সবাজার সরকারি কলেজ।