ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান কক্সবাজার থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছিল ঢাকায় : লোহাগাড়ায় পুলিশের হাতে দুটি অস্ত্রসহ আটক ৩ মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কক্সবাজারে পাঁচ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা? সড়ক দুর্ঘটনায় সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ক্যথিং এবং সাবেক এমপি এথিন রাখাইন আহত পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।