ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।