ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন ট্রাকে করে পাচারের জন্য যাচ্ছিলো ১৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার, ইউএনওর অভিযানে জব্দ খুরুশকুল নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে দেশী অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতারl আজিম মেম্বার এখন পেকুয়ার বিএনপির সুসময়ের বন্ধু! লামায় জব্দ করা ৮ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালুর নিলাম : সরকারি কোষাগারে জমা ২০ লাখ ২২ হাজার টাকা বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন : সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ১০ প্রার্থীর লড়াই সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না উখিয়ায় নিখোঁজের ২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার ৭ বছর বয়সী পূর্ণ বড়ুয়া, পরিবারের কাছে হস্তান্তর উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার রামুতে ​মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ১৫টি জেলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন নৌকা কক্সবাজার সিটি কলেজ এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুবিন আটক রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতার সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে পানিতে পড়ে নিখোঁজ, ১৮ ঘণ্টা পর শামীমের মরদেহ উদ্ধার

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আরো ১০ ছিনতাইকারী আটক, ২৪ ঘন্টায় আটক ১৪ জন

মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের উত্তর হরিনার ওঝা পাড়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়েছে অসহায় ৬৫ বছর বয়সী আবদুল বারীর একমাত্র মাটির ঘর।

মুহূর্তেই শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী-দুই ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। একসময় যে ঘরটি ছিল তার পরিবারের নিরাপদ ঠিকানা, আজ সেখানে পড়ে আছে কেবল ভাঙা দেয়াল, কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে নির্বাক বসে আছেন আবদুল বারী। চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, কণ্ঠজুড়ে অসহায়ত্বের আর্তনাদ। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন , ঘরটি ছিল আমাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঠাঁই। টানা বৃষ্টিতে সেটাও ভেঙে গেল।

এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। আমার ঘর বানানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। আমি সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।

আবদুল বারীর স্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণে ঘরের চারপাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি দেয়ালে লাগায় মাটির ঘরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো ঘরটি ধসে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান , ঘর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান জানান, আবদুল বারী খুবই অসহায় মানুষ।কোনোমতে সংসার চালান। নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। টানা বৃষ্টিতে তার একমাত্র ঘরটি ধসে পড়েছে। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত তার পাশে দাঁড়ান, যাতে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পায়।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবো। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।