ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ লোহাগাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রবীণ আইনজীবী প্রফেসর নুর আহমদ এডভোকেটের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী ২৬ আগস্ট আশ্রয়প্রার্থী বিদেশিদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আমেরিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন : কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের নতুন হোস্টেল একনেকে অনুমোদন ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখণ্ডিত, নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৩ সদস্য উদ্ধার: শিশু নিখোঁজ অশ্রুজলে ২৫ আগস্ট স্মরণ: বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট চাইলো লাখো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি দ্রুত সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে ৫ জেলে নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার অধিকার রয়েছে: ১৬ কূটনৈতিক মিশন দেশের ৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত একরামুল হত্যা: সাবেক এমপি বদি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ ট্রাইব্যুনালে তারকাহীন মহেশখালী খেলোয়াড় সমিতিকে হারিয়ে মাঠ মাতালো রামু কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।