ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
থাইংখালীতে জমিদখলের চেষ্টা, ১৪৪ ধারায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার আদেশ আদালতের ​পেকুয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমানে কিশোরের আত্মহত্যা হৃদরোগে আক্রান্ত : ইনানীর বে ওয়াচ রিসোর্টের সুইমিংপুলে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলি : আহত ১১ মাসের শিশু ‎কক্সবাজারে পাহাড় কাটার মূল হোতা খালেক মাঝি ও জোবায়ের গ্রেপ্তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ : পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে ভূয়া জন্মনিবন্ধন ইস্যুতে ইউপি সচিবের কারাদণ্ড: চেয়ারম্যান খালাস পেকুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু দুই দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পালংখালীতে এবার মিয়ানমারে পাচারের জন্য আনা সার ছিনতাই পেকুয়ায় সিঁধ কেটে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে চুরি, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে কী হয় লোহাগাড়ার শাহী দরবেশিয়া জামে মসজিদে চুরি: আইপিএসের ব্যাটারি ও দানবাক্সের টাকা নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জনপ্রত্যাশার সংবিধান সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমদ ঝিনাইদহে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি আহত

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

থাইংখালীতে জমিদখলের চেষ্টা, ১৪৪ ধারায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার আদেশ আদালতের

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।