বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, “বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানুষের প্রতি দায় আছে।” সে কারণেই সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরুতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোথাও স্লুইসগেট বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো.আ:মান্নানের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও পুলিশ সুপার এম এন সাজেদুর রহমান বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন। এখনও প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি, ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২ হাজার ৪৪ কিলোমিটার সড়ক এবং ধসে পড়েছে ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, তবুও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। স্থানীয়রা দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শাহেদ হোছাইন মুবিন : 



















