ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা “বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানুষের প্রতি দায় আছে”- কক্সবাজারে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: টেন্ডার সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে ‘রয়েল নাসির’ ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাশেদ-এর ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব বন্যার্তদের পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,রামুতে দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবারের বদলে হবে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার জেলা যুবদলের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বাঁশের সাঁকোই হলো মৃত্যুফাঁদ, রামুতে প্রাণ গেল যুবকের পুলিশের ‘বিশেষ’ অভিযান: আড়াই মাসে গ্রেপ্তার ৩৩ হাজার, বেশিরভাগই মাদক মামলায় ‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, শিশুর মতো যত্ন নিতে হবে’ ফ্রান্স কি স্পেনকে ভয় পাচ্ছে? ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল প্রতি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: প্রধানমন্ত্রী

ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা

টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজার জেলার মৎস্য খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের বন্যায় জেলার হাজারো পুকুর ও ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পিএল (পোস্ট লার্ভা)। এতে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন, অন্যদিকে জেলার মাছ উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মোট আয়তন ৫ হাজার ২৫৪ একর। এতে ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে জেলার মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা (পিএল) ভেসে গেছে। অর্থমূল্যে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মাছ উৎপাদনে। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া চিংড়িতে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, পোনায় ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং পিএলে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উখিয়া উপজেলা। সেখানে ৭৩০টি পুকুর ও ঘের, ২ হাজার একর জলাশয় এবং ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু উখিয়াতেই বন্যার পানিতে ৬৫২ মেট্রিক টন মাছ, ১৬২ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩১০ লাখ পোনা এবং ২০ লাখ পিএল ভেসে গেছে। জেলার মোট ক্ষতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হয়েছে এই উপজেলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে মহেশখালী উপজেলায়। সেখানে ১০৫টি পুকুর, ১ হাজার ৯৬৫ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে ২৩ মেট্রিক টন মাছ, ১০৫ মেট্রিক টন চিংড়ি এবং ২৫০ লাখ পোনা। উপজেলাটিতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। চকরিয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেখানে ৮৫০টি পুকুর, ২৯৩ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ১৭৮ মেট্রিক টন মাছ এবং ১১ মেট্রিক টন চিংড়ি। মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। উপজেলাটিতে ৬২০টি পুকুর, ২০০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১৩০ মেট্রিক টন মাছ এবং ২৩ মেট্রিক টন চিংড়ি। টেকনাফ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সেখানে ১০০টি পুকুর, ৬৮০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ৩২ মেট্রিক টন মাছ, ৫১ মেট্রিক টন চিংড়ি, ২ লাখ পোনা এবং ৯০ লাখ পিএল। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সদরে ৬০টি পুকুর, ১৮৫ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ১২ মেট্রিক টন মাছ, ২০ মেট্রিক টন চিংড়ি, ২০ লাখ পোনা এবং ১০০ লাখ পিস পিএল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। উপজেলাটিতে প্রায় ১৯৩টি পুকুর, ৩৪ একর জলাশয় এবং ৫২ মেট্রিক টন মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদগাঁও উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার। আর তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে রামু উপজেলায়। যেখানে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যায় কোনো মৎস্যচাষির প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জেলার শত শত মাছচাষি এখন নতুন করে উৎপাদন শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

চকরিয়ার মৎস্যচাষি মনির উদ্দিন বলেছেন, অধিকাংশ পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মাছ পানির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুর কাদায় ভরে গেছে। আবার অনেক জায়গায় পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে পোনা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেসব চাষি ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন, বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘের পুনঃসংস্কারে সরকারি সহায়তা জরুরি। অন্যথায় চলতি বছরের এই ক্ষতির প্রভাব আগামী মৌসুমের মাছ উৎপাদনেও পড়বে। যা স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ ও জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তার ভাষায়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র শুধু মাছচাষিদের আর্থিক দুর্দশারই নয়। বরং কক্সবাজারের অন্যতম সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতের সামনে তৈরি হওয়া বড় সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচিই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র ভরসা।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে মৎসচাষিদের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারী সহায়তা দেয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা

ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০১:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজার জেলার মৎস্য খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের বন্যায় জেলার হাজারো পুকুর ও ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পিএল (পোস্ট লার্ভা)। এতে একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছচাষিরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন, অন্যদিকে জেলার মাছ উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মোট আয়তন ৫ হাজার ২৫৪ একর। এতে ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে জেলার মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা (পিএল) ভেসে গেছে। অর্থমূল্যে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মাছ উৎপাদনে। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া চিংড়িতে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, পোনায় ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং পিএলে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উখিয়া উপজেলা। সেখানে ৭৩০টি পুকুর ও ঘের, ২ হাজার একর জলাশয় এবং ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু উখিয়াতেই বন্যার পানিতে ৬৫২ মেট্রিক টন মাছ, ১৬২ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩১০ লাখ পোনা এবং ২০ লাখ পিএল ভেসে গেছে। জেলার মোট ক্ষতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হয়েছে এই উপজেলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে মহেশখালী উপজেলায়। সেখানে ১০৫টি পুকুর, ১ হাজার ৯৬৫ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে ২৩ মেট্রিক টন মাছ, ১০৫ মেট্রিক টন চিংড়ি এবং ২৫০ লাখ পোনা। উপজেলাটিতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। চকরিয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেখানে ৮৫০টি পুকুর, ২৯৩ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ১৭৮ মেট্রিক টন মাছ এবং ১১ মেট্রিক টন চিংড়ি। মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। উপজেলাটিতে ৬২০টি পুকুর, ২০০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১৩০ মেট্রিক টন মাছ এবং ২৩ মেট্রিক টন চিংড়ি। টেকনাফ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সেখানে ১০০টি পুকুর, ৬৮০ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ৩২ মেট্রিক টন মাছ, ৫১ মেট্রিক টন চিংড়ি, ২ লাখ পোনা এবং ৯০ লাখ পিএল। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সদরে ৬০টি পুকুর, ১৮৫ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ১২ মেট্রিক টন মাছ, ২০ মেট্রিক টন চিংড়ি, ২০ লাখ পোনা এবং ১০০ লাখ পিস পিএল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। উপজেলাটিতে প্রায় ১৯৩টি পুকুর, ৩৪ একর জলাশয় এবং ৫২ মেট্রিক টন মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদগাঁও উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার। আর তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে রামু উপজেলায়। যেখানে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যায় কোনো মৎস্যচাষির প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জেলার শত শত মাছচাষি এখন নতুন করে উৎপাদন শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

চকরিয়ার মৎস্যচাষি মনির উদ্দিন বলেছেন, অধিকাংশ পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মাছ পানির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুর কাদায় ভরে গেছে। আবার অনেক জায়গায় পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে পোনা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না। যেসব চাষি ব্যাংক কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন, বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘের পুনঃসংস্কারে সরকারি সহায়তা জরুরি। অন্যথায় চলতি বছরের এই ক্ষতির প্রভাব আগামী মৌসুমের মাছ উৎপাদনেও পড়বে। যা স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ ও জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তার ভাষায়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র শুধু মাছচাষিদের আর্থিক দুর্দশারই নয়। বরং কক্সবাজারের অন্যতম সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতের সামনে তৈরি হওয়া বড় সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচিই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র ভরসা।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে মৎসচাষিদের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারী সহায়তা দেয়া হবে।